চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পরিত্যক্ত চরগুলোয় সরকার অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলায় কমে গেছে চারণভূমি। যার প্রভাব পড়েছে মহিষের খামারে। চারণভূমি সংকটে গত পাঁচ বছরে মহিষ পালন কমেছে ৪৩ শতাংশ।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রতি পাঁচ বছর পরপর উপজেলায় পশু শুমারি হয়। এতে দেখা গেছে, ২০১৮ সালে মিরসরাইয়ে মহিষের সংখ্যা ছিল ১০ হাজার। কিন্তু বর্তমানে মহিষ আছে চার হাজার ৭২৫টি। পাঁচ বছরে মহিষের সংখ্যা কমেছে ৪৩ শতাংশ। উপজেলার সবচেয়ে বেশি মহিষ ছিল ইছাখালী ও সাহেরখালী ইউনিয়নে। ওই দুই ইউনিয়নে হাজার হাজার একর চর থাকায় খামারিরা নির্বিঘ্নে মহিষ পালন করতেন। কিন্তু পরিত্যক্ত চরগুলোয় সরকার অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলায় কমে গেছে মহিষের চারণভূমি। তাই মহিষ পালনে আগ্রহ হারাচ্ছেন খামারিরা।

জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা জাকিরুল ইসলাম ফরিদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মিরসরাইয়ে গত বছর মহিষের সংখ্যা কমেছে প্রায় ৪৩ শতাংশ। মহিষের চারণভূমি কমে যাওয়ায় পালনের আগ্রহ হারাচ্ছে কৃষক। চরাঞ্চলে অর্থনৈতিক অঞ্চলের কারণে মূলত মহিষের সংখ্যা কমেছে।’

ইছাখালী ইউনিয়নের চরশরৎ এলাকায় মহিষ পালক নিজাম উদ্দিন বলেন, ‘চরাঞ্চলের মানুষের আয়ের অন্যতম মাধ্যম হচ্ছে পশু পালন। তার মধ্যে মহিষ অন্যতম। ২০১৪ সালে আমার দুটি মহিষ জলদস্যুরা লুট করে নিয়ে যায়। পরে আরো দুটি মহিষ কিনেছিলাম। এখন এগুলো বিক্রি করে দিয়েছি। এখন মহিষ পালনের জায়গা না থাকায় চরের মানুষ আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে।’

আরেক মহিষ পালক বাবুল সওদাগর বলেন, ‘মহিষ পালন করে চরাঞ্চলের অনেক মানুষ স্বাবলম্বী হয়েছে। কিন্তু দিন দিন মহিষ পালন কমে যাচ্ছে। মহিষ পালনের জন্য অনেক বেশি জায়গা প্রয়োজন হয়। বিশেষ করে চরাঞ্চলে মহিষ পালন অনেক সুবিধা। কিন্তু চরাঞ্চল কমে যাওয়া মহিষ পালন করতে চাচ্ছে না অনেকে।’

বাংলাদেশ ডেইরি ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে, প্রাকৃতিক চারণভূমি কমে যাওয়ায় গবাদিপশু লালন-পালনে বিকল্প খাদ্যের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে খামারিদের। হয় দুই বা তিন ফসলি জমিতে ঘাসের চাষ করতে হচ্ছে অথবা বাজার থেকে কৃত্রিম খাবার কিনতে হচ্ছে। এতে গবাদি পশু লালন-পালনে ব্যয় বাড়ছে। কৃত্রিম গো-খাদ্যের ওপর চাপ পড়ায় এক দশকে গো-খাদ্যের দামও বেড়েছে তিন গুণ। এ পরিস্থিতিতে মহিষ পালনে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন খামারিরা।

সাহেরখালী ইউনিয়নের দুই ব্যবসায়ী আবুল কালাম বলেন, ‘আগে বিভিন্ন চরে গিয়ে মহিষের দুধ কিনে আনতাম। সে দুধকে দইয়ে পরিণত করে বিভিন্ন বাজারে বিক্রি করতাম। প্রতি কেজি মহিষের দুধের দই বিক্রি হতো ৬০-৮০ টাকা। কিন্তু এখন মহিষের দুধ পাওয়া কঠিন। এখন এক কেজি দই ১২০-১৫০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।’

মিরসরাই বাজারের ছাপাখানা ব্যবসায়ী মো. ওয়াজি উল্ল্যা বলেন, ‘আগে মিরসরাই, মিঠাছড়াসহ এর আশপাশে বাজারগুলোয় মহিষের দুধ ও দই পাওয়া যেত। ব্যবসায়ীরা মাটির পাত্রে মহিষের দই বিক্রি করতেন। এখন মহিষের দই তেমন একটা চোখে পড়ে না।’