দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি পরিত্যক্ত কক্ষ থেকে দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। গতকাল সকাল ৯টার দিকে পুলিশ তাদের মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত দুই শিশু হলো উপজেলার শংকরপুর ঘোড়ানী গ্রামের শরিফুল ইসলামের দুই ছেলে রিমন (৭) ও ইমরান (৩)।  ঘটনার পর থেকে নিহত শিশুদের বাবা পলাতক রয়েছেন। পরিবারের সদস্যদের উদ্ধৃত করে পুলিশ বলছে, পারিবারিক কলহের জের ধরে বাবা তার দুই শিশুসন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যা করেছেন।

নিহত শিশুদের দাদা রফিকুল ইসলাম (৬০) জানান, দীর্ঘদিন ধরে তার ছেলে শরিফুলের সঙ্গে পুত্রবধূ উম্মে কুলসুমের দাম্পত্য কলহ চলে আসছিল। বনিবনা না হওয়ায় এক মাস আগে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়। এরপর কুলসুম ঢাকায় গিয়ে একটি পোশাক কারখানায় চাকরি নেন। ছাড়াছাড়ির পর থেকে সন্তানদের নিয়ে তাদের মধ্যে প্রায়ই সেল ফোনে বাগিবতণ্ডা হতো।

নিহত শিশুদের দাদি অছিরন বেগম জানান, নিত্যদিনের মতো বৃহস্পতিবার শরিফুল তার দুই শিশুসন্তানসহ রাতে খাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়ে। কিন্তু গতকাল সকালে ঘুম থেকে উঠে শরিফুলের ঘরের দরজা খোলা দেখতে পাই। পরে ঘরে গিয়ে দেখা যায় শরিফুলসহ শিশুরা বিছানায় নেই। শরিফুলের বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সকাল ৮টার দিকে শরিফুল তার বাবা রফিকুলকে ফোন করে জানান, তিনি নিজে তার সন্তানদের বিষ খাইয়ে হত্যা করে তাদের মরদেহ ভবানীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত কক্ষে রেখে এসেছেন। পরে পরিবারের লোকজন ওই বিদ্যালয়ের পরিত্যক্ত ঘর থেকে চটের বস্তা মোড়ানো অবস্থায় দুই শিশুর মরদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেয়।

বিরল থানার ওসি রেজাউল হাসান জানান, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করি। এ সময় ওই ঘরের বাইরে থেকে একটি বিষের বোতল উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর দুই শিশুর মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য দিনাজপুর এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

দিনাজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. আসলাম উদ্দিন বলেন, পারিবারিক বিরোধের কারণেই দুই শিশুকে হত্যা করা হয়েছে। প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হতে পুলিশ নিহতদের বাবার সন্ধানে নেমেছে। এছাড়া সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।