মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, দেশীয় পর্যায়ে কিছু খাতে, বিশেষ করে কৃষি ও প্রাণীসম্পদে মিথেন ও অন্য গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ ঘটে। তবে এসব খাতে নিঃসরণ নিয়ন্ত্রণ ও হ্রাস করার মতো গবেষণা দেশে রয়েছে। মাঠপর্যায়ে এসব গবেষণালব্ধ পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা গেলে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গণে প্রমাণ করতে পারবে যে, স্বল্প নিঃসরণকারী দেশ হয়েও বাংলাদেশ দায়িত্বশীলভাবে মিথেন নিঃসরণ কমাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে, যা ধনী দেশগুলোর জন্যও একটি দৃষ্টান্ত হয়ে ওঠবে।
মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) বিকালে সাভারে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই) বাস্তবায়িত ‘আইওটি বেইজড ৪এফ মডেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশের খরা-প্রবণ ও উপকূলীয় অঞ্চলে টেকসই জলবায়ু সহিষ্ণু প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় সেমিনার এবং ‘৪এফ মডেল’ এর রেপ্লিকা উদ্বোধনের সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, বিএলআরআই জলবায়ু ট্রাস্ট ফান্ডের সহায়তায় ‘৪এফ মডেল’ ভিত্তিক একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প গ্রহণ করেছে। এ প্রকল্পের মাধ্যমে ঘাস থেকে পশুখাদ্য, খাদ্য, জ্বালানি (বায়োগ্যাস) ও জৈবসার উৎপাদন সম্ভব হবে, যা ক্ষুদ্র কৃষক পর্যায়েই বাস্তবায়নযোগ্য। এতে একদিকে মিথেন নিঃসরণ কমবে, অন্যদিকে কৃষকের জীবনমান উন্নত হবে।
প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, অনেক দেশ বাংলাদেশে স্বল্পমূল্যে মাংস রফতানি করতে চায়। বিদেশে গিয়ে দেখেছি, তাদের ডোমেস্টিক মাংসের দাম কম নয়। তারা আসলে তাদের প্রাণিসম্পদ ইন্ড্রাস্ট্রির উদ্বৃত্ত মাংস আমাদের দেশে রফতানি করতে চায়। বিদেশ থেকে মাংস আমদানির ক্ষেত্রে নানাবিধ ঝুঁকি রয়েছে।
তিনি বলেন, গরুর মাংস আমদানি করলে দেশীয় খামারিরা ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং এতে স্বাস্থ্যঝুঁকিও থাকতে পারে। সাবান-শ্যাম্পুর মতো শিল্পপণ্য হিসেবে উৎপাদিত মাংস নয়, বরং দেশীয় পরিবেশে খাপ খাওয়ানো গবাদিপশুই আমাদের অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে উপদেষ্টা বলেন, প্রাণিসম্পদ খাতে মৌলিক ও নীতিগত পরিবর্তনের প্রয়োজন রয়েছে। এরইমধ্যে এ খাতে বিভিন্ন পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে, যার সুফল অদূর ভবিষ্যতে পাওয়া যাবে।
সেমিনারে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) গাজী মো. ওয়ালি-উল-হক। সম্মানীয় অতিথি ছিলেন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. আবু সুফিয়ান। সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন বিএলআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. শাকিলা ফারুক।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই প্রধান অতিথি এবং অন্যান্য আমন্ত্রিত অতিথিদের বিএলআরআই গবেষণা খামারে অবস্থিত প্রকল্প এলাকার কার্যক্রম সরেজমিনে পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রকল্প আওতায় স্থাপিত ‘ ৪এফ মডেল’ এর রেপ্লিকা উদ্বোধন করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মাননীয় উপদেষ্টা ফরিদা আখতার। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ খায়রুল বাশার।
সেমিনারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, খামার ও পোল্ট্রি উৎপাদন বিশেষজ্ঞ, খামারি, উদ্যোক্তা, বিএলআরআই-এর বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।










