ক্ষুদ্র মজুদদারদের কারণে পাট শিল্প অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, করোনার পর পাট শিল্পে সম্ভাবনার দুয়ার খুলেছিল। কিন্তু কাঁচাপাটের অনিয়ন্ত্রিত মূল্যবৃদ্ধির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেতা হারাতে হয়েছে। এতে ক্ষুদ্র মজুদদারদের প্রভাব বেড়ে গেছে।
আজ বৃহস্পতিবার (৬ মার্চ) সকালে রাজধানীর মনিপুরীপাড়ায় জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারে বহুমুখী পাটপণ্য ও তাঁত বস্ত্র মেলা উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় পাট দিবস উপলক্ষে পাট অধিদপ্তর ও জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টারের উদ্যোগে ২০ দিনব্যাপী এ মেলার আয়োজন করা হয়েছে।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, করোনা পরবর্তী সময়ে পাট রফতানি এক বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছিল। তখন কাঁচাপাটের দাম ২ হাজার টাকা থেকে বেড়ে ৭ হাজার টাকা হয়ে যায়। এ কারণে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ফলে তারা বিকল্প খুঁজতে শুরু করে। এর প্রভাব গত ২-৩ বছর ধরে শিল্প উদ্যোক্তারা ভোগ করছেন। এমনকি কৃষকরাও ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না।
পাট রফতানির সীমাবদ্ধতা নিয়ে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, আমাদের পাট রফতানির সম্ভাবনা ৫ বিলিয়ন ডলার হলেও তা এখন ১ বিলিয়ন ডলারের নিচে নেমে এসেছে। তিনি বলেন, আমরা অন্তত ২ বিলিয়ন ডলারে নিয়ে যেতে চাই। তবে বায়বীয় পরিকল্পনা নয়, বাস্তবসম্মত উদ্যোগ নিতে হবে।
পাটের স্থানীয় চাহিদা বাড়ানোর বিষয়ে তিনি বলেন, ম্যান্ডেটরি জুট প্যাকেজিং অ্যাক্ট অনুযায়ী কিছু পণ্যে বাধ্যতামূলকভাবে পাটের মোড়ক ব্যবহার করতে হবে। এ ছাড়া বাজারের জন্য পাটের ব্যাগ তৈরি করা গেলে কয়েকশ কোটি টাকার বাজার তৈরি হবে, যা উদ্যোক্তাদের জন্য বড় সুযোগ সৃষ্টি করবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বস্ত্র ও পাট সচিব আব্দুর রউফ। আরো বক্তব্য দেন পাট অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) জিন্নাত আরা, বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের চেয়ারম্যান আবু আহমেদ সিদ্দিকী, রেশম বোর্ডের পরিচালক এম এ মান্নান, প্রাক্তন অতিরিক্ত সচিব বিমল চন্দ্র রায়, জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক তাপস প্রামাণিক ও বাংলাদেশ জুট মিল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারম্যান ফরহাদ আহমেদ আকন্দ।










