দুদিনের নাটকীয়তার পর অবশেষে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতির পদ হারালেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ফারুক আহমেদ। বিসিবির পরিচালক হিসেবে তার মনোনয়ন বাতিল করে গতকাল প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি)। এর ফলে বিসিবি সভাপতির পদ শূন্য হলো।
এনএসসির প্রজ্ঞাপন জারির আগে গতকাল ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টার কাছে চিঠি দেন বিসিবির আট পরিচালক। চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন বাংলাদেশ দলের সঙ্গে পাকিস্তান সফরে থাকা নাজমূল আবেদীন ফাহিম, সাইফুল আলম স্বপন চৌধুরী, ফাহিম সিনহা, ইফতেখার রহমান, মাহবুবুল আনাম, কাজী ইনাম আহমেদ, মনজুর আলম ও সালাহউদ্দিন চৌধুরী।
অনাস্থার চিঠিতে বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা, স্বজনপ্রীতি, অনিয়মসহ নানা অভিযোগ তুলেছেন আট পরিচালক। তারা দাবি করেন বিসিবিতে বিভিন্ন কমিটির প্রধান হিসেবে তারা নিজেদের মতামত দিতে পারছেন না। সে জন্য তারা যথেষ্ট দক্ষতা ও যোগ্যতা থাকার পরও যথাযথভাবে তাদের ভূমিকা রাখতে পারছেন না। এছাড়া সাবেক শ্রীলংকান কোচ চন্ডিকা হাথুরুসিংহেকে কারো সঙ্গে আলোচনা না করে ফারুক আহমেদ তার একক সিদ্ধান্তে অপসারণ করেছেন। এরপর ওয়েস্ট ইন্ডিজের ফিল সিমন্সকে হেড কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়। মূলত সর্বশেষ বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) আয়োজনে অব্যবস্থাপনা, অনিয়ম আর বিতর্ক চরমে ওঠার পরই সমালোচিত হন ফারুক। এরপর জাতীয় দলের ছন্নছাড়া পারফরম্যান্স তো রয়েছেই। বিপিএলে যাচাই-বাছাই না করে ফ্র্যাঞ্চাইজি মনোনয়ন, বিসিবির তালিকাভুক্ত ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানিকে কাজ না দেয়াসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসা আরো কিছু অভিযোগের কথাও চিঠিতে উল্লেখ করেছেন আট পরিচালক।
সম্প্রতি বিসিবির এফডিআর কাণ্ডে তুমুল সমালোচনার মুখে পড়েন ফারুক আহমেদ। অবশ্য এফডিআর দুর্বল ব্যাংকে স্থানান্তরের অভিযোগের বিষয়টি উল্লেখ করেননি পরিচালকরা। তিন পৃষ্ঠার চিঠির শেষদিকে অনাস্থা প্রস্তাব আমলে নিয়ে এনএসসিকে ফারুক আহমেদের মনোনয়ন বাতিল করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে। এরপর গতকাল রাতেই আসে পরিচালক হিসেবে এনএসসি কর্তৃক তার মনোনয়ন বাতিলের প্রজ্ঞাপন। তাকে সরিয়ে দেয়ার কারণ হিসেবে আট পরিচালকের তার প্রতি অনাস্থা ও বিপিএল নিয়ে সত্যানুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদন পর্যালোচনা স্বাভাবিক রাখার কথা উল্লেখ করেছে এনএসসি।
বুধবার রাতে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ফারুক আহমেদ। সেখানে ফারুককে জানানো হয়, সরকার আর বিসিবি সভাপতি পদে তাকে চাইছে না। তবে পদত্যাগ করতে অনিচ্ছুক ছিলেন তিনি। সংবাদমাধ্যমকে ফারুক আহমেদ বলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি পদত্যাগ করব না। আমাকে বলা হয়েছে, সরকার নাকি আমাকে আর বিসিবি সভাপতি হিসেবে রাখতে চাইছে না। কিন্তু কেন রাখতে চাইছে না, সেটার কোনো কারণ তারা আমাকে বলেনি। বিনা কারণে তো আমি পদত্যাগ করতে পারি না।’
গুঞ্জন রয়েছে ফারুক আহমেদের জায়গায় বিসিবি সভাপতি হিসেবে আসতে পারেন সাবেক অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তিনি বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরিয়ান।










