পারিবারিক অনুষ্ঠানে দই একটি অভিজাত খাবার হিসেবে পরিবেশিত হয়ে আসছে। রমজানের শুরুতে বগুড়ার ঐতিহ্যবাহী সাদা ও টক দইয়ের সঙ্গে বিক্রি হচ্ছে মিষ্টি দইও। সারা বছরই দুই প্রকার দইয়ের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে অন্যান্য বারের চেয়ে এবার রমজানে বিক্রি বেড়েছে।
ব্যবসায়ীরা জানান, রমজান এলেই বেড়ে যায় সাদা দইয়ের চাহিদা। গতকাল প্রথম রমজানে শহরের দইয়ের দোকান ও ফুটপাতে ছিল প্রচুর ভিড়। দোকানে ৭০-২৮০ টাকায় সাদা দই বিক্রি হচ্ছে। আর ফুটপাতে আকার ভেদে ৬০-১৮০ টাকায় সাদা দই বিক্রি হচ্ছে। রোজাদার ব্যক্তিদের জন্য দই এখন ইফতারে অন্যতম আকর্ষণ হয়ে আছে। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় সাদা দইয়ের সরবরাহ দিতে পারছেন না দই ব্যবসায়ীরা।
বগুড়া শহরের এনামুল জানান, দই তৈরির সময় যতটা প্রয়োজন, তা পাওয়া যাচ্ছে না। চাহিদা প্রচুর রয়েছে। প্রথম রোজার জন্য ২০০টি সাদা দই তৈরি করা হয়েছিল। সেই দই বিকালেই শেষ হয়েছে।
দই বিক্রেতারা জানান, রমজানে দইয়ের প্রচুর চাহিদা রয়েছে। চাহিদামতো দই সরবরাহ করা যায় না। দই তৈরির উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন দইয়ের দামও বেড়েছে। সাদা দই মিলছে ৭০-২০৮ টাকার মধ্যে। আর মিষ্টি দই মিলছে ৩২০ টাকার মধ্যে।
বগুড়া শহরের প্রবীণরা জানান, স্বাধীনতাযুদ্ধের আগে থেকে টক দইয়ের প্রচলন ও জনপ্রিয়তা বাড়তে থাকে। এ সময় থেকে টক দই ইফতারে পরিবেশন শুরু হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রীতিমতো ইফতারে টক দইয়ের প্রচলন স্থায়ী হয়ে যায়।
বগুড়া শহরের চেলোপাড়ায় ভাঁড়ে করে দই বিক্রি করতে আসা নারায়ণ চন্দ্র জানান, প্রতিদিন ১২-১৪ হাজার টাকার দই বিক্রি করেন তিনি। প্রথম রোজার দিনে দুপুরেই শেষ হয়ে গেছে তার দই। রমজানে টক দইয়ের চাহিদা রয়েছে। ১৮ বছর ধরেই তিনি রমজানে ২৬-২৭ হাজার টাকার দই বিক্রি করছি। এবার দইয়ের দাম বেড়েছে। এ বছর একেকটি দইয়ের পাতিল বিক্রি করতে হচ্ছে ২৪০ টাকা করে।’
বগুড়া শহরেই রয়েছে কমপক্ষে ১০০টি দইয়ের দোকান। এছাড়া শহরের আশপাশে রয়েছে আরো ২০০টির মতো দোকান। এসব দোকানে প্রতিদিন প্রচুর দই বিক্রি হচ্ছে। শহরের এশিয়া সুইট মিট ও দইঘর, চেলোপাড়া দইঘর, রুচিতা, আকবরিয়া, মিঠাই, রফাত দইঘর, দইবাজার, মিষ্টিমহল, দইঘর, মহরম আলী, শেরপুর দইঘর, চিনিপাতাসহ বিভিন্ন শো রুমে দই বিক্রি হচ্ছে। আবার শহরের বাইরে রফাত দইঘর, শেরপুরের রিপন দধি ভাণ্ডার, সাউদিয়া, ফুড ভিলেজ দই, জলযোগ, বৈকালি ও শুভ দধি ভাণ্ডারে দই বিক্রি হচ্ছে।









