সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নামে আরেকটি হত্যা মামলা হয়েছে। এতে আসামি করা হয়েছে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকেও। শিক্ষক সেলিম হোসেনকে হত্যার অভিযোগে গতকাল বগুড়া সদর থানায় এ মামলা হয়।

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে এ নিয়ে ছয়টি মামলা হলো। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গণহত্যার একটি অভিযোগও আনা হয়েছে। 

বগুড়ায় মামলার বাদী হয়েছেন নিহত সেলিম হোসেনের বাবা সেকেন্দার আলী। মামলায় শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদেরকে তিনি হত্যার নির্দেশদাতা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এতে আসামি করা হয়েছে ১০১ জনকে। এ তালিকায় আওয়ামী লীগের দুজন সাবেক সংসদ সদস্য, পাঁচজন উপজেলা চেয়ারম্যান, দুজন মেয়র, আটজন কাউন্সিলর, ১০ জন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ২৫ জনপ্রতিনিধিও রয়েছেন।

সেলিম হোসেনের বাড়ি বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার পিরব ইউনিয়নের পালিকান্দা গ্রামে। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ৪ আগস্ট বগুড়া শহরের সাতমাথা এলাকায়  বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা হয়। হামলাকারীরা ককটেল ও পেট্রলবোমা হামলা চালায়। এতে শিক্ষক সেলিম হোসেন রক্তাক্ত হন। পরে কুপিয়ে ও হকিস্টিক দিয়ে পিটিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। 

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা হয় ১৩ আগস্ট। মুদি দোকানি আবু সায়েদকে হত্যার অভিযোগে দায়েরকৃত এ মামলায় আসামি করা হয় শেখ হাসিনাসহ সাতজনকে। নিহতের ‘শুভাকাঙ্ক্ষী’ পরিচয়ে এসএম আমীর হামজা (শাতিল) নামের এক ব্যক্তি এ মামলা করেন। 

এরপর ১৪ আগস্ট শেখ হাসিনার নামে আরো দুটি মামলা হয়। একটি মামলা হয় হত্যার অভিযোগে; আরেকটি অপহরণের। এসব মামলায় ক্ষমতাচ্যুত সরকারের এমপি-মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতাকেও আসামি করা হয়। একই দিন শেখ হাসিনাসহ নয়জনের নামে মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগ আনা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থায় এ অভিযোগ জানান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী গাজী এমএইচ তামিম।

১৫ আগস্ট শেখ হাসিনাসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে শিশু হত্যার অভিযোগে মামলা হয়। রাজধানীর মোহাম্মদপুরে জোবাইদ হোসেন ইমন নামের এক শিশুকে হেলিকপ্টার থেকে গুলি চালিয়ে হত্যার অভিযোগে এ মামলা হয়। একই দিন শেখ হাসিনার নামে আরেকটি মামলা হয় আগারগাঁওয়ে পুলিশের গুলিতে এক যুবকের মৃত্যুর ঘটনায়।