অনলাইনে রিটার্ন দাখিল করে স্বস্তি পেয়েছেন করদাতারা। লাইনে না দাঁড়িয়ে ঘরে বসে রিটার্ন দাখিল করতে পেরে তারা আনন্দিত। পাশাপাশি কিছু সমস্যায়ও তারা পড়েছেন। সবমিলিয়ে স্বস্তির পরিমাণই বেশি। ই-রিটার্ন সিস্টেমের সমস্যা চিহ্নিতকরণ এবং সমাধানের উপায় নির্ধারণ বিষয়ক এক কর্মশালায় অংশীজনেরা তাদের এ মত তুলে ধরেন। তারা জানান, কেরানী পর্যায়ের কর্মচারীর চোখ রাঙানি থেকে তাদেরকে বাঁচিয়েছে ই-রিটার্ন।
রোববার (১৬ মার্চ) এনবিআর ভবনে আয়কর বিভাগের কর তথ্য ব্যবস্থাপনা ও মূল্যায়ন শাখা এ কর্মশালার আয়োজন করে।
আলোচনায় অংশ নিয়ে লায়নস আই ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক শাহিনুর রহমান বলেন, ‘ভীতি থেকে অনেকে রিটার্ন দাখিল করেন না। কর অফিস থেকে আরো করদাতাবান্ধব সেবা প্রত্যাশা করেন নাগরিকরা। ই-রিটার্ন দাখিল করে আমি তো অবাক, সঙ্গে সঙ্গে সার্টিফিকেটও পেয়ে গেলাম। অথচ আগে মাসের পর মাস ঘুরতে হতো।’ তিনি বলেন, ‘কেরানী পর্যায়ের কর্মচারীদের চোখ রাঙানি থেকে বাঁচিয়েছে এ ই-রিটার্ন।’
ব্রিটিশ-আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশের সহকারী কর ব্যবস্থাপক অনিক দাস বলেন, ‘দেশে অনেক সিস্টেম, কিন্তু ইন্টিগ্রেশন নেই।’ ই-রিটার্ন সিস্টেমে ব্যাচ ডেটা আপলোড যুক্ত করা, অটোফিল রাখা, এপিআই ওপেন করা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তৈরি করা সফটওয়্যার ব্যবহার করেও রিটার্ন দাখিলের ব্যবস্থা করার পরামর্শ দেন তিনি। এছাড়া তিনি ফিডব্যাক নেয়ার ফরম যুক্ত করার কথাও বলেন।
নেসলে বাংলাদেশের কর বিভাগের প্রধান মীর রেজাউল করিম বলেন, তারা তাদের প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শতভাগ ই-রিটার্ন দাখিল করেছেন। বায়োমেট্রিক সিম ছাড়াও এনআইডি ও পাসপোর্ট দিয়ে ই-রিটার্ন নিবন্ধনের সুযোগ দেয়ার কথা বলেন তিনি। ক্যাপিটাল গেইনে কর অব্যাহতির বিষয়, করদাতার জন্য কর অঞ্চল পরিবর্তন আরো সহজ করার দাবি জানান তিনি।
এছাড়া রবি আজিয়াটা লিমিটেডের হিউম্যান রিসোর্স ডিভিশনের জেনারেল ম্যানেজার দেওয়ান সাজ্জাদুল হাসান, ডাচ বাংলা ব্যাংক লিমিটেডের কর বিভাগের প্রধান মো. শহীদুল্লাহ, স্ট্যান্ডার্ড চাটার্ড ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত সিএফও মো. মনোয়ার হোসেন, সোনালী ব্যাংকের সুমন আনোয়ার মাহমুদ, ইউনিলিভার বাংলাদেশের কর বিভাগের প্রধান সাঈদ আহমেদ খান ও বাংলাদেশ ট্যাক্স লইয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি রমিজ উদ্দিন আহমেদসহ আরো অনেক অংশীজন তাদের মত জানান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খান বলেন, ‘অনলাইনে রিটার্ন জমায় ভালো সাফল্য পাওয়ায় আগামী বছর এটিকে বাধ্যতামূলক করা হবে। আমাদের অনলাইনে রিটার্ন না দেয়ার কোনো উপায় নেই। আমাদের পুরোপুরি অনলাইনে রিটার্ন দিতেই হবে। অনলাইন রিটার্ন জমায় সময় ও অর্থ বাঁচে। আর টেনশন একদমই না। কারণ ক্যালকুলেশন তো, কোনটা ট্যাক্স এবল, কোনটার কত কর হার কিছুই জানা দরকার নেই। আপনি তথ্যগুলো দেবেন, সিস্টেম ক্যালকুলেশন করে দেবে।’
অনলাইন রিটার্ন আরো সহজ হবে জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, ‘আগামী বছরের পহেলা জুলাই থেকে অনলাইন রিটার্ন সহজলভ্য হবে। এ বছর যারা রিটার্ন দিয়েছেন তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংরক্ষিত থাকবে। এটা অনেক লম্বা সময় ধরে আমাদের আর্কাইভে থাকবে। আমরা ক্লাউড সার্ভারও নেব। আমরা অ্যাপস তৈরি করব। আগামী বছর থেকে করপোরেট রিটার্ন অনলাইনে দিতে হবে। অনলাইন রিটার্ন গত বছরের তুলনায় ৫ গুণ বেড়েছে। ১৫ লাখের কাছাকাছি রিটার্ন আমরা পেয়ে গেছি। আগামী বছর এটাকে শতভাগ কম্পালসারি করতে চাই। উইথ ফিউ একসেপশন। যাদের একান্ত কোনো কারণ আছে, তারা দিতে পারবে না।’
অনলাইন রিটার্নের সুবিধা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আপনি কেবল তথ্য দেবেন। ক্যালকুলেশনের সিস্টেম আছে। যদি কোনো ভুলত্রুটি হয় তার দায়িত্ব ডিপার্টমেন্টের। আপনার কোনো দায় নেই। কিন্তু আপনি যখন ম্যানুয়ালি করেন, এতে যখন ভুলত্রুটি হয় তখন পুরো দায় আপনার ওপর চলে আসে। অনেকেই অডিটের নামে ডাকাডাকি করে। অডিটের সিলেকশন আপনাদের বিবেচনায় সঠিক হয় না। একজন করদাতা প্রতিবছর ডাক পায়, আরেকজন করদাতাকে কখনোই ডাকা হয় না। এরকম হওয়ার কথা না। যদি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন দেন তাহলে প্রয়োজনীয় তথ্য আমাদের কাছে থাকবে। আমাদের পক্ষে আর্টিফিশিয়াল ইন্টিলিজেন্স ব্যবহার করে অটোমেটেড পদ্ধতিতেতে ফাইল সিলেকশন করা যাবে। তখন আপনাকে পছন্দ করে না বলে বারবার ডাকবে, এ ধরনের ঘটনা ঘটবে না।’
তিনি আরো বলেন, ‘আগামীতে আমাদের সব কাজ ডিজিটাইজড হবে। সে আঙ্গিকে আমরা প্রকল্প হাতে নিয়েছি। যতই সময় লাগুক আমরা এনবিআরকে, এনবিআরের প্রতিটি কাজকে ডিজিটাইজড করব।’
বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন সদস্য (কর প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) জি এম আবুল কালাম কায়কোবাদ। সভাপতিত্ব করেন সদস্য (কর তথ্য ব্যবস্থাপনা ও মূল্যায়ন) আবু হান্নান দেলওয়ার হোসেন। ই-রিটার্ন বিষয়ক তথ্য-উপাত্ত তুলে ধরেন দ্বিতীয় সচিব রইসুন নেসা। কর্মশালায় এনবিআরের সদস্য ও কমিশনারসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।










