ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে
আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেছেন, সরকার সকল বাহিনী নামিয়ে হাজার হাজার
মানুষ হত্যা করেছে, লাখো মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে। হাজার হাজার বাচ্চা এতিম হয়েছে, অনেকে
বিধবা, পঙ্গু, অন্ধ হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ অসহায় যন্ত্রণায় হাসপাতালে কাতরাচ্ছে।
মানুষ ঘরে থাকতে পারছে না। ঘরে থেকেও গুলিবিদ্ধ হচ্ছে, বাচ্চারা খেলতে পারছে না, গুলিবিদ্ধ
হচ্ছে। ছাদে গেলেও গুলি, বাসায় জানালা দিয়েও গুলি। এ সরকার রক্তের নেশায় মত্ত হয়ে উম্মাদ
হয়ে গেছে। বাসা-বাড়িতে থাকতে পারছে না, পুলিশ গ্রেফতার করছে। অনেক বাবা, ভাই লাশ গ্রহণ
করতে পারছে না পুলিশ ও সরকারের সন্ত্রাসীদের ভয়ে। এজন্য শত শত লাশ বেওয়ারিশ দাফন করা
হয়েছে। সরকার জনগণের মন থেকে শান্তি কেড়ে নিয়ে অশান্তির আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে।
মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, আমরা আর একটা খুন
চাই না, গুলি চাই না। যদি গুলি চালানো হয় জনগণ গণভবন অভিমুখে মিছিল নিয়ে ঘেরাও করতে
বাধ্য হবে।
বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সকল কর্মসূচির সাথে
একাত্মতা ঘোষণা করে ঐক্যবদ্ধভাবে সরকার পতন আন্দোলনে সকলকে নেমে আসার আহ্বান জানিয়ে
মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, ইসলামী আন্দোলন শুরু থেকে এ আন্দোলনের পাশে ছিল, আছে, থাকবে।
মুফতি ফয়জুল করীম আগামী ৫ আগস্ট এক দফা দাবিতে ঢাকায় গণমিছিল কর্মসূচি ঘোষণা করেন।
এছাড়াও সারা দেশে জেলা ও মহানগরে গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে। ঢাকার গণমিছিলে নেতৃত্ব দেবেন
দলের আমীর।
শনিবার (৩ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর বায়তুল
মোকাররম উত্তর গেটে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের তাৎক্ষণিক এক মিছিল উত্তর সমাবেশে তিনি
এসব কথা বলেন। বায়তুল মোকাররম উত্তর গেট থেকে একটি বিশাল মিছিল মুফতি ফয়জুল করীমের
নেতৃত্বে পল্টন মোড় হয়ে প্রেসক্লাবের সামনে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়। সেখানে বক্তব্য
শেষে পুনরায় মিছিলটি কদম ফোঁয়ারা হয়ে দোয়েল চত্বর হয়ে পুনরায় প্রেসক্লাব, পল্টন মোড়,
বিজয়নগর নাইটেংঙ্গেল হয়ে পুরানা পল্টন মোড়ে এসে সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
মুফতি ফয়জুল করীম বলেন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র
আন্দোলন এখন শুধু ছাত্রদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, এ আন্দোলন জনগণের আন্দোলনে পরিণত হয়েছে।
এ আন্দোলন বাঁচার আন্দোলন, অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন, জালিমের কবল থেকে মজলুমের মুক্তির
আন্দোলন। দেরি না করে জনরায় মেনে সরকারকে পদত্যাগের আহ্বান জানিয়ে তিনি আরো বলেন, হত্যা-নির্যাতন
করে গদি রক্ষা করা যাবে না।










