বগুড়ায় অনিয়ন্ত্রিতভাবে চলাচলকারী ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ও অটোরিকশা বিদ্যুৎ ব্যবহারে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। প্রতিদিন হাজারো অবৈধ যানবাহন ব্যাটারি চার্জে বিপুল বিদ্যুৎ খরচ করছে, এতে সাধারণ গ্রাহকদের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে।

শুধু বিদ্যুৎ অপচয়ই নয়, বেপরোয়া গতি, অদক্ষ চালক ও ট্রাফিক আইন অমান্যের কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। শহরের অলিগলিতে শো-রুম খুলে অবৈধভাবে এসব যান বিক্রি হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে সংখ্যা। বর্তমানে জেলায় প্রায় দেড় লাখ অটোরিকশা চলছে, যার মধ্যে ৪০ হাজারের মতো শুধু জেলা শহরেই। গ্যারেজগুলোয় অনিরাপদভাবে ব্যাটারি চার্জ দেয়ায় অগ্নিকাণ্ড ও প্রাণহানির ঝুঁকি বাড়ছে।

ট্রাফিক পুলিশের তথ্যমতে, প্রতিদিন বগুড়া শহরে ৩৫ হাজারের বেশি ইজিবাইক ও অটোরিকশা চলাচল করে। প্রশিক্ষণহীন চালক, এলোমেলো পার্কিং, ফুটপাত দখল ও উল্টো পথে চলাচলের কারণে যানজট এখন নিত্যদিনের ভোগান্তি।

শহরের বিভিন্ন এলাকায় ঘরে ঘরে চার্জার ঘর গড়ে উঠেছে। বাসাবাড়ির সংযোগ ব্যবহার করে একসঙ্গে ১৫-২০টি অটোরিকশা চার্জ দেয়ায় লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। কম দামে গাড়ি কিনে দ্রুত আয় করতে চাওয়ায় বেকার তরুণরা এ খাতে ঝুঁকছেন। ফলে প্রতিনিয়ত বাড়ছে এ ধরনের যানবাহনের সংখ্যা।

নেসকো সূত্রে জানা গেছে, শহরে নিবন্ধিত গ্যারেজ ৬০৮টি, অনিবন্ধিত রয়েছে শতাধিক। প্রতিটি ব্যাটারি চার্জে গড়ে দুই থেকে চার ইউনিট বিদ্যুৎ লাগে। ফলে দিনে প্রায় পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খরচ হচ্ছে শুধু ইজিবাইকের পেছনে। নেসকোর পাঁচ মেগাওয়াট ইউনিট মিলে জেলায় দৈনিক বিদ্যুতের চাহিদা ৮৬-৯০ মেগাওয়াট, যা গরমে আরো বেড়ে যায়।

নেসকো বগুড়ার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল মন্নাফ জানান, ‘বগুড়ায় বিদ্যুতের ঘাটতি নেই। তবে গরম বাড়লে চাহিদাও বেড়ে যায়। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের লোডশেডিং হয়নি।’