ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার খিরু নদীতে নৌকা ও ট্রলারের মুখোমুখি সংঘর্ষে চিকিৎসকসহ দুজন নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাতে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার রাতে একজনের এবং গতকাল দুপুরে অন্যজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন ভালুকা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক অমিত কুমার রায় (৩২) ও স্থানীয় ব্যবসায়ী তানভীর আহাম্মেদ (৩০)। অমিত কুমার গাজীপুর জেলা সদরের নন্দ দুলাল রায়ের ছেলে এবং তানভীর ভালুকা উপজেলার ঝালপাজা গ্রামের আজিজুল হকের ছেলে।

ভালুকা ৫০ শয্যাবিশিষ্ট সরকারি হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ভালুকায় অবস্থিত হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের উদ্যোগে চিকিৎসকদের নিয়ে নৌকায় পিকনিকের আয়োজন করা হয়। মঙ্গলবার বিকালে হাসপাতাল ঘাট থেকে ৮-১০ জন চিকিৎসকসহ ২০-২২ জনকে নিয়ে পিকনিকের নৌকাটি যাত্রা করে। নৌকাটি খিরু নদীর ভেতর দিয়ে পার্শ্ববর্তী শ্রীপুর উপজেলার কাওরাইদ এলাকায় পৌঁছে। সেখান থেকে রাত ৮টার দিকে ভালুকায় ফেরার পথে উড়াহাটি এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রলারের সঙ্গে নৌকাটির সংঘর্ষ হয়। এ সময় নৌকাটি মাঝনদীতে ডুবে যায়। নৌকায় থাকা যাত্রীদের মধ্যে প্রায় সবাই সাঁতরে তীরে উঠে এলেও চিকিৎসক অমিত কুমার রায় ও ব্যবসায়ী তানভীর আহাম্মেদ নদীতে নিখোঁজ হন। খবর পেয়ে ভালুকা ফায়ার সার্ভিস ও একটি ডুবুরি দল ৪ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে তানভীরের মরদেহ উদ্ধার করে। রাত গভীর হওয়ায় উদ্ধারকাজ স্থগিত করা হয়। গতকাল সকাল থেকে আবার উদ্ধার অভিযান শুরু হয়। দুপুরে চিকিৎসক অমিতের মরদেহ উদ্ধার করে ডুবুরি দল।

খবর পেয়ে ঘটনার রাতেই স্থানীয় এমপি কাজিম উদ্দিন আহাম্মেদ ধনু, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সালমা খাতুন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। গতকাল সকালে ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নজরুল ইসলাম ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন।

ভালুকা ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আল মামুন জানান, ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দলসহ আমাদের দুটি ইউনিট দীর্ঘ চেষ্টার পর মরদেহ দুটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

ভালুকা মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম জানান, মরদেহ দুটি উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে ময়মনসিংহ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. নজরুল ইসলাম জানান, করোনাকালে পিকনিকে যাওয়া ঠিক হয়নি। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।