২০০২ সালে রাজধানী ঢাকায় প্রতিষ্ঠা করা হয় লেকহেড গ্র্যামার স্কুল। ২০১৬ সালে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে স্কুলটি বন্ধ করে দেয় রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক)। এমন পরিস্থিতিতে মো. খালেদ হাসান মতিন ও তার প্রতিষ্ঠান আরএম গ্রুপ লিমিটেড স্কুলটির আংশিক মালিকানা গ্রহণ করেন। পরে এটির শতভাগ মালিকানাও কিনে নেয়া হয়।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) স্কুলটির মালিকানা, খালেদ হাসান মতিন ও তার প্রতিষ্ঠান আরএম গ্রুপের আর্থিক লেনদেনের অনুসন্ধান চালিয়ে অর্থপাচার আইনে মামলা দায়ের করে। পুলিশের এ তদন্ত সংস্থা দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর সম্প্রতি আদালতে খালেদ হাসান মতিন ও তার প্রতিষ্ঠানকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দিয়েছে।

সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার হুমায়ন কবির বণিক বার্তাকে বলেন, ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যক্তিগত হিসাবে এবং আরএম গ্রুপ প্রতিষ্ঠানের নামে স্থানান্তরের অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছিল। তদন্ত শেষে ৪ কোটি ৮২ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে আদালতে অভিযোগপত্র দেয়া হয়েছে।

আদালত সূত্র জানায়, মামলাটির তদন্ত শেষে সিআইডি ১০ মার্চ অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। ২০০২ সালে বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ব্রিটিশ নাগরিক হিযবুত তাহরীরের আমির ড. গোলাম মাওলার শ্বশুর মো. লতিফ আহমেদ লেকহেড গ্র্যামার স্কুলটি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০০৩ সালে স্কুলটির ৫০ শতাংশ মালিকানা কিনে নেন হারুন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মালিক হারুন রশিদ এবং তার ছেলে রেজওয়ান হারুনসহ পাঁচ সন্তান। তারা ২০১৫ সালে এটির শতভাগ মালিকানায় আসেন। ২০১৬ সালে রেজওয়ান হারুনসহ কিছু শিক্ষক ও কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জঙ্গি সম্পৃক্ততার অভিযোগ ওঠায় রাজউক স্কুলটি বন্ধ ঘোষণা করে।

স্কুলটি চালু করার শর্তে তত্কালীন মালিক হারুন রশিদ ২০১৬ সালের অক্টোবরে ‘ডিড অব পার্টনারশিপের’ মাধ্যমে খালেদ হাসান মতিনকে ৩ কোটি টাকার বিনিময়ে ৩০ শতাংশ শেয়ারের অংশীদার করে যুক্তরাজ্য চলে যান।

এরপর হারুন রশিদ ও রেজওয়ান হারুনের অনুপস্থিতি এবং দুর্বলতার সুযোগে খালেদ হাসান মতিন কোনো বিনিয়োগ না করেই শতভাগ মালিকানা দখলের পরিকল্পনা করেন। ২০১৭ সালের মার্চে তিনি বাকি ৭০ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা ২০ কোটি টাকা নির্ধারণ করে ছয়টি সমান কিস্তিতে পরিশোধযোগ্য ‘ডিড অব সেল’-এর মাধ্যমে সম্পূর্ণ স্কুলের নিয়ন্ত্রণ নেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তিনি কোনো টাকা দেননি। দীর্ঘ সময় পর হারুন রশিদকে মাত্র ৩ কোটি ৩০ লাখ টাকা দেন। বাকি টাকা পরিশোধ না করেই স্কুলের নিয়ন্ত্রণ হাতিয়ে নিয়ে স্কুলের সম্পদ ও উপার্জন নিজে ও নিজের প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ভোগ করেন খালেদ হাসান মতিন। এ অভিযোগে ‘ডিড অব সেল’ অনুযায়ী সালিশের জন্য উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগে আবেদন করেন স্কুলটির বিক্রেতা হারুন রশিদ ও তার চার মেয়ে ফারহান হারুন, হুমায়রা নওশীন হারুন, শাহজাদী আফশান হারুন ও সনি সাদাফ হারুন।

২০১৭ সালের নভেম্বরে একই অভিযোগে স্কুলটি আবারো বন্ধ করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। এরপর খালেদ হাসান মতিন হাইকোর্টে স্কুলটি খোলার আদেশ চেয়ে রিট পিটিশন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট স্কুলটি খুলে দেয়ার বিষয়ে নির্দেশনা দেন। কিন্তু সেখানে স্কুলটির আয়-ব্যয়ের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে সে বিষয়ে উল্লেখ না থাকায় তা মতিনের হাতে থেকে যায়। অন্যদিকে ডিড অব সেল অনুযায়ী প্রকৃত মালিকানা নির্ধারণে আদালত কোনো নির্দেশনা না দেয়ায় সেটাও মতিনের হাতে থেকে যায়।