ঘন ঘন নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল সিলেটের রাস্তাঘাট। মেরামত করলেও বেশি দিন টিকছিল না। তাই রাস্তাঘাট সুরক্ষায় বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছিল সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ। দীর্ঘ পরিকল্পনা শেষে সিলেটের গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ সড়কে এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশন স্থাপনের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়। তিন বছরে একটি সড়কে সেই স্টেশন স্থাপন করা হলেও পুরোপুরি চালু করা যাচ্ছে না নানা জটিলতায়। এখন পুরো প্রকল্পই যেন গতিহীন। তাই বাকি চার সড়কে এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশন কবে বসবে, এর উত্তর নেই যেন কারো কাছে।
সওজ সূত্রে জানা যায়, খণিজ সম্পদে ভরপুর সিলেট অঞ্চলের সড়কে পাথরবাহী পরিবহনের চাপ একটু বেশি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে সড়ক-মহাসড়ক। ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি পণ্য বহনের কারণে সংস্কারের পরও রাস্তাঘাট দ্রুতই নষ্ট হয়ে যায়। বারবার সংস্কারের কারণে সওজকে ব্যয় করতে হয় বিপুল অংকের টাকা। এ অবস্থায় সিলেটের পাঁচটি সড়ক-মহাসড়কে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র বসানোর উদ্যোগ নেয় সওজ অধিদপ্তর। এর মধ্যে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের লামাকাজীতে নির্মিত নিয়ন্ত্রণ স্টেশনটির কাজ শেষ হয়েছে দেড় বছর আগে। ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ১২ লাখ টাকা।
জানা যায়, গুরুত্বপূর্ণ সড়ক-মহাসড়কে ক্ষতি কমাতে ২০১৯ সালে সারা দেশে ২৮টি এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপনের প্রকল্প নেয় সরকার। সেই বছরের সেপ্টেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিলের নির্বাহী কমিটি (একনেক) প্রকল্পটির অনুমোদন দেয়। এর মেয়াদ ধরা হয় ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৬৩০ কোটি ২৮ লাখ টাকা।
সিলেটের সড়কে এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশন নির্মাণ হচ্ছে সওজের ওই প্রকল্পের আওতায়। তবে পরিকল্পনা চূড়ান্ত থাকলেও মাত্র একটি স্টেশনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। বাকিগুলোর মধ্যে ভোলাগঞ্জ সড়কে নির্মিতব্য এক্সেল লোড কন্ট্রোলের নির্মাণকাজ ৮০ শতাংশ সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সুতারকান্দি এক্সেল লোড কন্ট্রোলের কেবল জমি অধিগ্রহণ ও ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে। বাদাঘাট ও তামাবিলে স্টেশনের বিষয়টি চার লেন সড়কের উন্নয়ন প্রকল্পে ঢুকে গিয়েছে, ফলে এগুলো নির্মাণে আরো অনেক সময় লাগবে।
এদিকে সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়কের লামাকাজী এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশন চালু হলেও লক্ষ্য বাস্তবায়ন হচ্ছে না। এখন পর্যন্ত পণ্যবাহী পরিবহনের মালপত্রের ওজন পরিমাপের আওতায় আসেনি। স্টেশনটির দায়িত্বে রয়েছেন সিলেট সড়ক বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী সুমন চন্দ্র দাস। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ২০১৯ সালে স্টেশনটির কাজ শুরু হলেও কভিডের কারণে কাজ শেষ হতে একটু বেশি সময় লেগেছে। গত বছরের মাঝামাঝি কাজটি শেষ হয়েছে। স্টেশনটি অনানুষ্ঠানিকভাবে চালুও রয়েছে। তবে স্টেশনটি পরিচালনায় আনসার সদস্য নিয়োগসংক্রান্ত সাময়িক জটিলতা ছিল, সেটিও সম্পন্ন হয়েছে।
এ ব্যাপারে সওজের সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, সড়ক-মহাসড়কগুলোকে ক্ষতি থেকে বাঁচাতে এক্সেল লোড তথা অতিরিক্ত ধারণক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করার কেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে। এর আগে সিলেটের কোনো সড়কে এমন স্টেশন ছিল না। লামাকাজীর স্টেশনটি পুরোপুরি চালু ও ব্যবস্থাপনার জন্য ঠিকাদার নিয়োগের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন।
বাকি চার স্টেশন নির্মাণের বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ভোলাগঞ্জের কন্ট্রোল স্টেশনটি স্থাপনের কাজ ৮০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। সুতারকান্দির জমি অধিগ্রহণ ও ঠিকাদার নিয়োগ সম্পন্ন হয়েছে, কিছুদিনের মধ্যে কাজ শুরু হবে। তবে অন্য দুটির কাজ কবে শুরু হবে সেটা আপাতত বলা যাচ্ছে না। আশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, সিলেটের পাঁচটি এক্সেল লোড কন্ট্রোল স্টেশন নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সড়ক-মহাসড়কে বন্ধ হবে অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন। কেউ ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত পণ্য পরিবহন করলে সেটা নিয়ন্ত্রণকেন্দ্রে ধরা পড়বে। তখন তাকে নির্দিষ্ট জরিমানার মুখে পড়তে হবে।










