নূন্যতম মজুরি প্রত্যাখ্যান করে গত দুই সপ্তাহ ধরে বেতন বৃদ্ধির দাবিতে শ্রমিকরা সড়কে নেমে বিক্ষোভ করলে থমথমে হয়ে যায় শিল্পাঞ্চল আশুলিয়ার পরিস্থিতি। পোশাকশ্রমিকদের বিক্ষোভ ও ভাঙচুরের ঘটনায় সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১ এর আওতায় ১ হাজার ৭৯২টি কারখানার মধ্যে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ কারখানাগুলোর একটি ছাড়া বাকি সবগুলো খুলে দেয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ নভেম্বর) সকাল থেকে এসব এলাকার কারখানায় কাজ শুরু করেছেন শ্রমিকেরা।
শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১ এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ সারোয়ার আলম এসব তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১ এর আওতাধীন সাভার, আশুলিয়া ও ধামরাইয়ে ১ হাজার ৭৯২টি কারখানার মধ্যে আজ একটিমাত্র কারখানা ছাড়া বাকিগুলোতে কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে কিছু কারখানায় আংশিক কাজ চলছে। শুধুমাত্র শ্রমিকরা কাজ না করায় নাবা নীট কারখানাটি এখনো বন্ধ রয়েছে। গত কয়েকদিন ধরেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।
সকালে আশুলিয়ার জামগড়া, বেরন, নরসিংহপুর, নিশ্চিন্তপুর, জিরাবো এলাকা ঘুরে দেখা যায় অধিকাংশ কারখানার সামনে জড়ো হয়ে আছেন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। কারখানার ফটকে আজ থেকে কারখানা খোলার নোটিশ দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন কারখানার সামনে রয়েছে পুলিশ। অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত রয়েছে জলকামানসহ পুলিশের সাঁজোয়া যান।
একাধিক পোশাক কারখানার শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গতকাল সোমবার রাতে কারখানার সুপারভাইজার তাদেরকে মুঠোফোনে কারখানা খোলা এবং কাজে যোগদানের জন্য জানিয়েছেন। এনভয় কমপ্লেক্সের সামনের ফটকে দাঁড়িয়ে থাকা এক অপারেটর বলেন, গতকাল রাতে সুপারভাইজার আমাদের কাজে আসতে বলছে তাই আসছি।
প্রসঙ্গত, বেতন বৃদ্ধির দাবিতে টানা দুই সপ্তাহ কাজ বন্ধ করে সড়কে নেমে বিক্ষোভ করে শ্রমিকরা। তাদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস ও রাবার বুলেট ব্যবহার করে। চলমান অসন্তোষের মধ্যেই সাড়ে ১২ হাজার টাকা সর্বনিম্ন মজুরি ঘোষণা দেন মজুরি বোর্ড। বর্ধিত মজুরি প্রত্যাখ্যান করে আবারও আন্দোলনে নামে পোশাক শ্রমিকরা। এ আন্দোলনের মুখে শিল্পাঞ্চলের ১৩০ কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আজ থেকে পুনরায় সকল কারখানা খুলে দেয় কর্তৃপক্ষ।










