লালমনিরহাটের পাটগ্রামে বীর মুক্তিযোদ্ধা এম ওয়াজেদ আলীকে (৭২) গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। পাটগ্রাম পৌরসভার সাহেবডাঙায় নিহতের বাড়ির সামনে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়। নিহতের ভাগ্নে পাটগ্রাম উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমিন বাবুল ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত বীর মুক্তিযোদ্ধা এম ওয়াজেদ আলী পাটগ্রাম উপজেলার জগতবেড় ইউনিয়নের টংটিংডাঙা এলাকার মৃত বছির উদ্দিনের ছেলে। তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের ৬নং সেক্টরের প্রধান সংগঠক ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহচর সাবেক সংসদ সদস্য আবেদ আলীর ছোট ভাই। এছাড়া তিনি পাটগ্রাম মহিলা ডিগ্রি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ।
নিহতের পরিবার, হাসপাতাল ও স্থানীয়রা জানান, পাটগ্রাম পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাহেবডাঙা এলাকায় নিজ বাড়ির সামনে শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। ওয়াজেদ আলীকে সড়কে পড়ে থাকতে দেখে এক রিকশাচালক চিৎকার করলে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে দ্রুত পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পাটগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও উপজেলা চেয়ারম্যান রুহুল আমিন বাবুল কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘রাত সাড়ে ৯টার দিকে খবর পেয়ে আমরা গলা কাটা অবস্থায় তার বাসার সামনে থেকে উদ্ধার করে পাটগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করলে তাকে বাসায় নিয়ে আসা হয়।’
তিনি আরো বলেন, ‘তার কোনো শত্রু ছিল না। কেন, কে বা কারা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে জবাই করে হত্যা করেছে? তা আমরা অনুমান করে কিছু বলতে পারছি না। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চাই এবং অপরাধীদের আইনের আওতায় দ্রুত আনা হবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।’
পাটগ্রাম থানার ওসি ওমর ফারুক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমরা অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার জন্য তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’
তিনি জানান, বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. ওয়াজেদ আলীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া শরীরের বিভিন্ন জায়গায় ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।










