প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে সাবেক প্রধান বিচারপতি ও আইন কমিশনের সদ্য সাবেক চেয়ারম্যান খায়রুল হকের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার আবেদন খারিজ হয়েছে। গতকাল শুনানি শেষে আবেদনটি খারিজ করে দেন ঢাকা মহানগর হাকিম দিলরুবা আফরোজ বীথি। প্রতারণা, বিশ্বাসভঙ্গ ও জালিয়াতির অভিযোগে এ আবেদন করেছিলেন আইনজীবী ইমরুল হাসান।
আদালতের পেশকার আশুতোষ ভৌমিক বলেন, ‘বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ ঢাকার অন্য মহানগর হাকিমের এখতিয়ারাধীন হওয়ায় জবানবন্দি নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ২০৩ ধারায় মামলার আবেদন খারিজ করেছেন বিচারক।’
এদিকে এবিএম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গতকাল সরকারকে একটি আইনি নোটিস দেয়া হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ও আইন সচিবের কাছে নোটিসটি দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও ফাউন্ডেশন ফর ল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (ফ্লাড) চেয়ারপারসন ফাওজিয়া করিম ফিরোজ।
নোটিসে বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের ডিসেম্বরের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর হঠাৎ পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নেয়, যখন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিষয়টি বিচার বিভাগের সামনে আনা হয়। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি খায়রুল হক রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান অপ্রাসঙ্গিক ও অসাংবিধানিক বলে ঘোষণা করেন। তার অবসরের ১৬ মাস পর রায় প্রকাশ হয়। এ রায় বাংলাদেশে কুৎসিত সংস্কৃতির জন্ম দিয়েছে।
খায়রুল হক দেশের সব অস্থিরতা ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার স্থপতি দাবি করে নোটিসে আরো বলা হয়, তিনি শুধু সংবিধানের বিধানই লঙ্ঘন করেননি, বরং সব ঘৃণার বিষবৃক্ষ, দুর্নীতি ও বর্বরতা রোপণ করেন। সব প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের মনোবল হ্রাস, বিচার বিভাগকে দুর্নীতিগ্রস্ত ও পক্ষপাতদুষ্টে পরিণত করেন। এসব অভিযোগের গুরুত্ব বিবেচনা করে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।
এছাড়া সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হকের বিরুদ্ধে গতকাল শাহবাগ থানায় মামলার আবেদন করা হয়েছে। রায় জালিয়াতির অভিযোগ এনে সন্ধ্যায় শাহবাগ থানায় অভিযোগটি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুহাম্মদ মোজাহিদুল ইসলাম। তবে এ অভিযোগ মামলা হিসেবে নিবন্ধন হবে কিনা সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানাতে পারেনি পুলিশ।
শাহবাগ থানার দায়িত্বরত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক এলিস মাহমুদ গতকাল রাতে বলেন, ‘সাবেক বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ করেছেন এক আইনজীবী। সেটি এখনো মামলা হয়নি।’
মামলার আবেদনে মোজাহিদুল উল্লেখ করেন, বিচারপতি খায়রুল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কথায় প্রভাবিত হয়ে এবং তার অবসর-পরবর্তী ভালো পদায়নের জন্য লোভের বশবর্তী হয়ে দুর্নীতিমূলকভাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে খুশি করার অভিপ্রায়ে ২০১১ সালের ১০ মে সংক্ষিপ্ত আদেশ পরিবর্তন করে বেআইনিভাবে ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আপিল মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ করেন।










