গতকাল সকালে সাধারণ দর্শনার্থীর মতো নিজেই টিকিট কেটে চিড়িয়াখানায় প্রবেশ করেন তিনি। প্রায় ২ ঘণ্টার এ পরিদর্শনে প্রতিমন্ত্রী প্রাণীদের খাঁচা, প্রাণী চিকিৎসা কেন্দ্র ও ওষুধ সংরক্ষণাগার ঘুরে দেখেন। প্রথমেই তিনি প্রাণী পুষ্টি শাখায় গিয়ে খাবারের মান ও পরিমাণ যাচাই করেন। পরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে প্রাণীদের খাদ্য, স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচর্যার বিষয়ে খোঁজখবর নেন।
পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল চিড়িয়াখানার পরিবেশ, ব্যবস্থাপনা ও সম্ভাব্য ত্রুটি সরজমিনে পর্যবেক্ষণ করা। এ সময় দর্শনার্থীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সমস্যা ও প্রত্যাশার বিষয়ে মতামত নেন প্রতিমন্ত্রী।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী বেদখল হওয়া চিড়িয়াখানার প্রায় সাত একর জমি দ্রুত পুনরুদ্ধারের নির্দেশনা দেন। একই সঙ্গে পাবলিক টয়লেট বৃদ্ধি, দর্শনার্থীদের বসার স্থান সম্প্রসারণ, রাস্তাঘাট মেরামত, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা ও পশুপাখির সংখ্যা বাড়ানোর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘বর্তমান বাজেটের মধ্যেই দৃশ্যমান উন্নয়নকাজ শুরু করতে হবে।’
আকস্মিক পরিদর্শন সম্পর্কে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু জানান, চিড়িয়াখানায় কোনো ধরনের অব্যবস্থাপনা রয়েছে কিনা তা দেখতেই তিনি হঠাৎ করে এসেছেন। তিনি বলেন, ‘কাউকে না জানিয়ে এখানে এসেছি, যাতে প্রকৃত অবস্থা বোঝা যায়। পরিচ্ছন্নতা, বসার ব্যবস্থা ও দর্শনার্থীদের সুবিধা বাড়াতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নতুন কিছু প্রাণী আনার পরিকল্পনাও রয়েছে।’
তিনি আরো জানান, প্রাণীদের খাদ্য সরবরাহ সন্তোষজনক হলেও দর্শনার্থীরা আরো উন্নত পরিবেশ প্রত্যাশা করেন। সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। চিড়িয়াখানাকে আরো সংগঠিতভাবে পরিচালনা করতে হবে, এটি একটি সম্ভাবনাময় প্রকল্প। সঠিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে এটিকে লাভজনক ও দর্শনার্থীবান্ধব প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রীর একান্ত সচিব মো. আবুবকর সরকার, চিড়িয়াখানার পরিচালক ড. মোহাম্মাদ রফিকুল ইসলাম তালুকদার, চিড়িয়াখানার কিউরেটর ডা. মো. আতিকুর রহমানসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সরজমিনে দেখা গেছে, রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা হাজারো দর্শনার্থীর ভিড়ে চিড়িয়াখানা ছিল মুখর। প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রদর্শনী এলাকায় ছিল উপচে পড়া ভিড়। পরিবার-পরিজন ও শিশুদের উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশ উৎসবমুখর হয়ে ওঠে।










