টাঙ্গাইলে মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের ১০ লক্ষাধিক টাকার হিসাবে গরমিল পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হিসাব মেলাতে না পারায় সদস্যদের তোপের মুখে গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত অ্যাসোসিয়েশনের সপ্তম সাধারণ সভা মুলতবি করা হয়েছে।

অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের বিরুদ্ধে করোনাকালীন প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে প্রদানের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের একদিনের বেতনের কর্তনকৃত ৩ লক্ষাধিক টাকা প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে না দিয়ে ইচ্ছামতো ব্যয় করার অভিযোগ রয়েছে। এছাড়া সোনালী ব্যাংকের করপোরেট হোলসেল ঋণ অনুমোদনের নামে আবেদন ফরম বিক্রি করে ৭ লক্ষাধিক টাকার কোনো হিসাব নেই বলেও জানিয়েছেন সদস্যরা।

গত মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিপারপাস ভবনে অনুষ্ঠিত অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সপ্তম সাধারণ সভায় সদস্যরা এ নিয়ে সরাসরি দায়িত্বপ্রাপ্ত ওই তিন নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।

সাধারণ সভার প্রথম দিকে আলোচ্যসূচির শুরুতে আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ সময় অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা আয়-ব্যয়ের যথাযথ হিসাব চাইলে সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষ যথাযথ তা দিতে ব্যর্থ হন। তখন সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নিয়মবহির্ভূতভাবে অ্যাসোসিয়েশনের ফান্ড থেকে মাসিক খরচের নামে অর্থ আত্মসাৎ করার প্রতিবাদে তুমুল বিতর্ক ও হট্টগোল সৃষ্টি হয়। এক পর্যায়ে সাধারণ সদস্যদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সভা পরিচালনায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সভা মুলতবি ঘোষণা করেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সদস্য বলেন, সভার শুরুতেই আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে আলোচনা শুরু হলে টেক্সটাইল বিভাগের ডেপুটি রেজিস্ট্রার সেলিম আল মামুনের সঙ্গে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাদৎ-আল-হারুন বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।

অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাদৎ-আল-হারুন বলেন, সভায় কোনো গণ্ডগোল হয়নি। তবে সভা মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ মফিজুল ইসলাম মজনু বলেন, অর্থনৈতিক কোনো বিষয় নয়।

 তবে গঠনতন্ত্র সংশোধন করার জন্য সভা মুলতবি ঘোষণা করা হয়েছে।