গতকাল এ উপলক্ষে যশোর, রাজবাড়ী, চাঁদপুর, দিনাজপুর, ঝিনাইদহ, নওগাঁ ও সাতক্ষীরাসহ সব জেলায় বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণে পুষ্পস্তবক অর্পণ, র‌্যালি, আলোচনা সভা, দোয়া ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। প্রতিনিধিদের খবর—

যশোর: ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণ-অভ্যুত্থান ও শেখ হাসিনা সরকারের পতনের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয়েছে। মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দান থেকে র‌্যালিটি বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে মনিহার এলাকায় গিয়ে শেষ হয়। এর আগে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। তিনি বলেন, ‘নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের সুযোগ এসেছে। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লড়াইয়ে যে বা যারা যতটুকু আত্মত্যাগ করেছেন, সবাই মিলে নতুন বাংলাদেশ গড়তে চাই।’

রাজবাড়ী: শ্রীপুর এলাকার ‘জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে’ জেলা প্রশাসক আফরোজা পারভীন ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর মোর্শেদ শ্রদ্ধা জানান। জেলা বিএনপি, ছাত্রদল, এনসিপি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে পুষ্পমাল্য অর্পণ শেষে দোয়ার আয়োজন করা হয়।

চাঁদপুর: ভোর ৬টার দিকে জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান ও পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান শহরের শহীদ মিনারের পাশে স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। জেলা বিএনপিসহ সর্বস্তরের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নেন।

চুয়াডাঙ্গা: সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শহীদ হাসান চত্বরে জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবির খানের নেতৃত্বে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। পরে ‘ডিসি সাহিত্য মঞ্চে’ ‘জুলাই চেতনায় গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

দিনাজপুর: সকাল ১০টার দিকে দিনাজপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মো. জেদান আল মুসা স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। দুপুরে শিশু একাডেমি মিলনায়তনে শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের সংবর্ধনা দেয়া হয়।

ফরিদপুর: ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ এবং জেলা ও পুলিশ প্রশাসন শহরের লাভলু মিয়া সড়কের স্মৃতি বেদিতে শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া জেলা বিএনপির উদ্যোগে একটি বিজয় র‌্যালি ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশ আয়োজন করা হয়।

ঝিনাইদহ: কেমব্রীজ একাডেমির সামনে জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য আলী আজম মো. আবু বকর, জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন ও অন্যরা শ্রদ্ধা অর্পণ করেন।

নওগাঁ: শহরের মুক্তির মোড়ে স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম ও পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম। পরবর্তী সময়ে নওগাঁ বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে উপাচার্য ড. মোহাম্মদ হাছানাত আলীর সভাপতিত্বে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

নেত্রকোনা: সকাল ৭টা ৫৯ মিনিটে ১ মিনিট নীরবতা পালনের পর সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. আনোয়ারুল হক ও জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান জয়ের বাজার মোড়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

গাইবান্ধা: বৃষ্টি উপেক্ষা করে পৌর পার্কে স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। পরে ইনডোর স্টেডিয়ামে আলোচনা সভা ও শহীদ পরিবারের মাঝে সম্মাননা স্মারক দেয়া হয়।

পটুয়াখালী: সংসদ সদস্য এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী ও জেলা প্রশাসক ডা. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর নেতৃত্বে সর্বস্তরের মানুষ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

সাতক্ষীরা: জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ ও অন্যান্য প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধার্ঘ অর্পণ এবং শিল্পকলা একাডেমিতে শহীদ পরিবারের সংবর্ধনা অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি): উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফরিদুল ইসলামের নেতৃত্বে আলোকচিত্র প্রদর্শনী, বিজয় র‌্যালি, বৃক্ষরোপণ, আর্ট ক্যাম্প এবং সিনেট ভবনে আলোচনা সভা আয়োজিত হয়। এছাড়া রংপুর, ময়মনসিংহ, গাইবান্ধা ও নরসিংদীতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে নানা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

দিনটি উপলক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভাগুলোতে বক্তারা জুলাই অভ্যুত্থানের বীর শহীদদের ত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন ও ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান রোধে জাতীয় ঐক্যের ওপর জোর দেন।