বন্যাকবলিত সিলেট ও সুনামগঞ্জের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলো খুলেছে। উপস্থিতির হার অর্ধেকেরও কম। অন্যদিকে সুনামগঞ্জে সবক’টি প্রাথমিক বিদ্যালয় খুললেও এখনো সিলেটের ৫১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পাঠদান কার্যক্রম শুরু হয়নি। ২৬টি বিদ্যালয়ে এখনো রয়ে গেছে বন্যার পানি আর ২৫টি বিদ্যালয় ব্যবহূত হচ্ছে আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে। সিলেটের যেসব বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু করা সম্ভব হয়েছে, সেসব বিদ্যালয়ে উপস্থিতির হার ৩০-৪০ শতাংশ। তবে সুনামগঞ্জে এ হার আরো কম।
সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্র জানায়, গতকাল ছিল বিদ্যালয় খোলার দ্বিতীয় দিন। এ দিন পর্যন্ত জেলায় ২৭৭ বিদ্যালয়ের মধ্যে ২২৬টি বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থী উপস্থিতি হার ৩০-৪০ শতাংশ। জেলার ২৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখনো পানিতে নিমজ্জিত। ২৫টি বিদ্যালয় আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে। এর মধ্যে বালাগঞ্জে ১২টি বিদ্যালয়ের পানি নামেনি আর আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে তিনটি। দক্ষিণ সুরমায় পানিতে নিমজ্জিত ছয়টি এবং আশ্রয়কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে ১০টি। ফেঞ্চুগঞ্জে পানিতে নিমজ্জিত চারটি ও বন্যায় আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহূত হচ্ছে চারটি বিদ্যালয়। ওসমানীনগরে নিমজ্জিত তিনটি ও ছয়টি আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে। এছাড়া সিলেট সদর ও গোলাপগঞ্জে একটি করে বিদ্যালয় এখনো পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে।
কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ধোলাখাল লম্বাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফুরারপার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, লামা ডেসকিবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ফেদারগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দিগলবাকের পাড় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রবেশের রাস্তা ও আঙিনা এখনো পানির নিচে রয়েছে। তবে সড়কের যেসব এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো, সেখানে শিক্ষার্থী উপস্থিতি বাড়ছে।
গোলাপগঞ্জের আমকোনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহিদুল ইসলাম জানান, স্কুলে পানি ঢুকলেও এখন স্বাভাবিক অবস্থা। দুর্যোগজনিত বন্ধ হওয়ায় শিক্ষার্থীরা প্রথম দিন আসেনি। মাত্র একজন এসেছিল। অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আশা করা হচ্ছে, দ্রুত শিক্ষার্থী উপস্থিতি বাড়বে।
কানাইঘাট উপজেলার দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক আল-আমিন জানান, তার বিদ্যালয়ে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে গতকাল ৫০-৬০ জন উপস্থিত ছিল। দিন দিন উপস্থিতি আরো বাড়বে বলে আশা করেন তিনি।
কোম্পানীগঞ্জের বিলাজুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান
শিক্ষক আব্দুল আহাদ কাসেমী বলেন, সবসময়ই স্কুল খোলার প্রথম দিনে শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম থাকে। ধীরে ধীরে এ সংখ্যা বাড়বে।
এদিকে বন্যার পানি থাকায় সিলেট সদর উপজেলার শাহজালাল বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এখনো খোলেনি। সুনামগঞ্জে এবারের বন্যায় সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছিল। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয় ১ হাজার ৪৭৫টি।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এসএম আবদুর রহমান বলেন, তার জেলার সব বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু হয়েছে। শিক্ষার্থী উপস্থিতি কম। আর বেশির ভাগ হাওর এলাকা। তিনি বলেন, ঘরবাড়িতে পানি উঠে যাওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীর বই নষ্ট হয়ে গেছে। এ জন্য ৪০ হাজার বইয়ের চাহিদা পাঠানো হয়েছে।
সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জানান, জেলায় ২৭৭ বিদ্যালয়ের মধ্যে ২২৬টি বিদ্যালয়ে পাঠদান শুরু হয়েছে। এলাকাভেদে উপস্থিতি কম দেখা গেলেও আগামী সপ্তাহে আশা করা যাচ্ছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
উল্লেখ্য, গত ১৫ জুন থেকে তৃতীয় দফা বন্যা শুরু হয়েছিল সিলেটে, যা সিলেট ও সুনামগঞ্জে ভয়াবহ রূপ নেয়। এতে বিদ্যালয়গুলো ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই সঙ্গে ঈদের ছুটি ঘোষণা করে সরকার। ছুটি শেষে রোববার থেকে খুলেছে প্রাথমিক বিদ্যালয়। মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে ২০ জুলাই থেকে।










