বন্যার কারণে বৃহস্পতিবার থেকে পূর্বাঞ্চলের ২৯টি ট্রেন বন্ধ করে দেয়া হয়। এর মধ্যেই বন্যায় বিপর্যস্ত ফেনীতে ত্রাণ দিয়ে গেছে রেলের একটি উদ্ধারকারী ট্রেন। মূলত বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত রেলপথ পরিদর্শনে যাওয়ার সময় ওই ট্রেনে সাধারণ মানুষ ও রেলকর্মীদের দেয়া ত্রাণ নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রামের পাহাড়তলী থেকে ফেনীর উদ্দেশে ট্রেনটি ছেড়ে যায়। প্রায় ছয় হাজার মানুষের জন্য খাবার, কাপড় ও ওষুধ নিয়ে বেলা ২টার দিকে ট্রেনটি বন্যাকবলিত এলাকায় গিয়ে পৌঁছে। এ কার্যক্রম তদারকির কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন রেলওয়ের বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী (লোকো) সাজিদ হাসান।

তিনি জানান, ফেনীতে ভয়াবহ বন্যার কারণে রেললাইন ডুবে যায়। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতিতে রেলপথ পরিদর্শনের নিয়মিত কাজে গতকাল একটি ট্রেন নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ট্রেনে বন্যাকবলিত মানুষের জন্য ত্রাণ বা আপৎকালীন কোনো জিনিস নেয়া যায় কিনা, সে বিষয়ে প্রাথমিকভাবে চিন্তা করা হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তাতে সায় দেয়। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দেয়া হলে বিপুলসংখ্যক মানুষ ও রেলকর্মী সাড়া দিয়েছেন।

রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, ট্রেনটিতে প্রায় ছয় হাজার মানুষের জন্য খাবার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ট্রেনে শুকনো ও রান্না করা খাবার ছাড়াও কাপড়, ওষুধ ও বিশুদ্ধ পানি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। যাত্রাপথে চিনকি আস্তানা, ফাজিলপুর, মুহুরীগঞ্জ ও  ফেনী স্টেশনে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। এছাড়া ফেনী পৌঁছার পর নৌবাহিনী ও কোস্টগার্ডের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে বন্যায় আক্রান্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হয়। 

এছাড়া উদ্ধারকারী ট্রেনটিতে কোস্টগার্ডের ২০ সদস্য, বন্যার্তদের উদ্ধারের জন্য বেশ কয়েকটি ভাসমান বোট নেয়া হয়। কোস্টগার্ড সদস্যরা ফেনীর প্রত্যন্ত অঞ্চলে উদ্ধার তৎপরতা কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। ত্রাণ বিতরণের পাশাপাশি রেললাইনের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ করার কাজ করবেন রেলের প্রকৌশলী ও কর্মকর্তারা। মূলত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনী অংশ ডুবে যাওয়ায় অনেকেই চাইলেও ফেনী অঞ্চলে ত্রাণ নিয়ে যেতে পারছে না। তাছাড়া মহাসড়কে তীব্র যানজটের কারণেও দুর্গত এলাকায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। রেলের এ উদ্যোগকে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়ার একটি নতুন পদক্ষেপ বলে মনে করছেন রেলওয়ের কর্মকর্তারা।