বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে বর্তমানে ভাড়ায় (লিজ) আনা দুটি বোয়িং ৭৩৭ উড়োজাহাজ রয়েছে, যেগুলোর চুক্তির মেয়াদ শেষ হবে চলতি বছর। মেয়াদোত্তীর্ণ উড়োজাহাজের ঘাটতি পূরণ ও আসন্ন হজ মৌসুমে যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্যে গত সেপ্টেম্বরে নতুন করে দুটি উড়োজাহাজ ভাড়ার উদ্যোগ নেয় রাষ্ট্রায়ত্ত আকাশ পরিবহন সংস্থাটি। তবে তিন দফা দরপত্র আহ্বান করেও কোনো সাড়া পায়নি। গত ৭ এপ্রিল চতুর্থ দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে, যাকে ‘ শেষ চেষ্টা’ বলছেন বিমানের কর্মকর্তারা। দফায় দফায় দরপত্র আহ্বান করেও ভাড়ায় কাঙ্ক্ষিত উড়োজাহাজ আনতে না পারায় সামনের দিনগুলোয় ফ্লাইট চলাচলে একটু সমস্যা হতে পারে বলেও তারা জানিয়েছেন। এমনকি চলতি মৌসুমে হজযাত্রীদের সেবা দিতে সমন্বয় করতে হবে বিভিন্ন রুটের ফ্লাইটও।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস সূত্রে জানা গেছে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ১০টি নতুন উড়োজাহাজ কেনার পরিকল্পনা করেছিল সংস্থাটি। বোয়িং নাকি এয়ারবাসের উড়োজাহাজ নেয়া হবে, তা নিয়ে চলছিল আলোচনা ও দরকষাকষি। তবে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর নতুন উড়োজাহাজ কেনার প্রক্রিয়া স্থগিত হয়ে যায়। এর বদলে সিদ্ধান্ত হয় ভাড়ায় দুটি উড়োজাহাজ আনার। এ ধারাবাহিকতায় গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর বোয়িং ৭৩৭-৮ মডেলের দুটি উড়োজাহাজ লিজের জন্য প্রথম দফা দরপত্র আহ্বান করে বিমান।
আহ্বানকৃত দরপত্রে উল্লেখ করা হয়, বিমান উড়োজাহাজ দুটি লিজ নেবে ছয় বছরের জন্য। এর মধ্যে প্রথম উড়োজাহাজটি চলতি বছরের ১ ফেব্রুয়ারি ও দ্বিতীয় উড়োজাহাজটি ১ এপ্রিলের মধ্যে সংস্থাটির বহরে যুক্ত করার কথা ছিল।
বিমানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ভাড়ায় আনা উড়োজাহাজগুলো দিয়ে চলতি হজ মৌসুমে যাত্রী পরিবহনের পরিকল্পনা করা হয়েছিল। এজন্য সেগুলো বহরে যুক্ত করার সময়সীমা ১ এপ্রিল নির্ধারণ করে দেয়া হয়। নির্ধারিত সময়সীমা অতিক্রান্ত হলেও কাঙ্ক্ষিত উড়োজাহাজ বহরে আনতে পারেনি বিমান।
এমন প্রেক্ষাপটে বহরে থাকা বিদ্যমান উড়োজাহাজগুলো দিয়ে ২৯ এপ্রিল থেকে প্রি-হজ ফ্লাইট শুরু হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মহাব্যবস্থাপক (জনসংযোগ) বোসরা ইসলাম। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘২৯ এপ্রিল বেলা ৩টায় প্রথম হজ ফ্লাইট রওনা দেবে। ওইদিন সব মিলিয়ে পরিচালনা করা হবে চারটি ফ্লাইট।’
হজ ফ্লাইটের কারণে অন্য রুটে বিমানের ফ্লাইট চলাচলে কোনো প্রভাব পড়বে কিনা এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘হজ ফ্লাইটের জন্য আমরা কিছু ফ্লাইট সমন্বয় করব। কিছু রুট সমন্বয় করব। ফলে কোনো কোনো রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা কমে আসতে পারে।’
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের বহরে বর্তমানে উড়োজাহাজ রয়েছে ২১টি। এর মধ্যে চারটি বোয়িং ৭৭৭-৩০০ ইআর, চারটি বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনার, দুটি বোয়িং ৭৮৭-৯ ড্রিমলাইনার, ছয়টি বোয়িং ৭৩৭ ও পাঁচটি ড্যাশ ৮-৪০০ উড়োজাহাজ। এগুলো দিয়ে ২৩টি আন্তর্জাতিক ও সাতটি অভ্যন্তরীণ রুটে ফ্লাইট পরিচালনা করছে বিমান।
ভাড়ায় আনা দুটির চুক্তির মেয়াদ চলতি বছর শেষ হলে বিমানের উড়োজাহাজের সংখ্যা ১৯-এ নেমে আসবে। এমনটা হলে বিমানের ফ্লাইট পরিচালনায় একটু সমস্যা তৈরি হতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ড. সাফিকুর রহমানও। এ প্রসঙ্গে তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দুটি উড়োজাহাজ লিজ নেয়ার জন্য গত কয়েক মাসে আমরা একাধিকবার দরপত্র আহ্বান করি। তিনবার আহ্বান করেও আমরা কোনো উড়োজাহাজ পাইনি। তাই শেষ চেষ্টা হিসেবে আরেকটা দরপত্র আহ্বান করেছি, যেটা ৭ এপ্রিল উন্মুক্ত হয়েছে। এখন দরপত্র উন্মুক্ত হওয়া মানে এই নয় যে আমরা উড়োজাহাজগুলো পেয়ে গেছি। যেসব দরপত্র জমা পড়বে, সেগুলো মূল্যায়নের পর সর্বনিম্ন দরদাতার কাছ থেকে উড়োজাহাজ ভাড়া নেয়া হবে। কিন্তু এবারো যদি উড়োজাহাজ সংগ্রহ করতে না পারি, তাহলে হয়তো কোনো একটা বিকল্প ব্যবস্থা করব।’
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বিমানের যাত্রী পরিবহনের হার বেড়েছে জানিয়ে সংস্থাটির সিইও সাফিকুর রহমান বলেন, ‘যাত্রী চাহিদাও বাড়ছে। প্রচুর মানুষ এখন বিমানে ভ্রমণ করছে। এমন অবস্থায় বহর ছোট হয়ে এলে একটু সমস্যা তো হবেই। আমরা অনেকভাবেই চেষ্টা করে যাচ্ছি। কিন্তু ভাড়ায় উড়োজাহাজ পাওয়া না গেলে আমাদের তো আর কিছু করার নেই।’










