তিন বছর ধরে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিন নেই। দীর্ঘদিনেও নতুন সিটি স্ক্যান মেশিন না আনায় ভোগান্তিতে পড়েছে চিকিৎসাপ্রত্যাশী রোগীরা। হাসপাতালে ভর্তি মুমূর্ষু রোগীদের প্রয়োজনীয় সিটি স্ক্যান পরীক্ষা করাতে বিভিন্ন বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যেতে রোগীর স্বজনদের যেমন ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে, তেমনি তাদের খরচ বাড়ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কবে নাগাদ রমেক হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিন আসবে তা সঠিকভাবে জানাতে পারেনি। এদিকে দীর্ঘদিনেও হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিন পুনঃস্থাপন না হওয়ায় দরিদ্র অধ্যুষিত বিভাগের মানুষের মধ্যে হতাশা দেখা দিয়েছে।

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কেবিনে থাকা জটিল রোগে আক্রান্ত এক রোগীর স্বজনরা জানান, রোগ নির্ণয়ের জন্য হাসপাতালের চিকিৎসক সিটি স্ক্যান করার চিকিৎসাপত্র দেন। কিন্তু হাসপাতালে সিটি স্ক্যান মেশিন নষ্ট থাকায় বিপত্তিতে পড়তে হয়। রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে পরীক্ষার জন্য বাইরে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে স্বজনরা ব্যর্থ হয়েছেন। এখন বিষয়টি অনেকটা ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন। এভাবেই হাসপাতালে ভর্তি জটিল রোগে আক্রান্ত অনেক রোগীকে চিকিৎসার প্রয়োজনে বাইরে সিটি স্ক্যান করাতে নিয়ে যেতে অধিকাংশ সময় ভোগান্তি পোহাচ্ছেন স্বজনরা।

রমেক হাসপাতালের রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, হাসপাতালে সর্বশেষ সিটি স্ক্যান হয়েছে তিন বছর আগে। দুটি সিটি স্ক্যান মেশিনের মধ্যে ফিলিপস কোম্পানির ৬৪ স্লাইস মডেলের সিটি স্ক্যান মেশিন আগে বিভিন্ন কারণে নষ্ট-ভালো হলেও সর্বশেষ এটিকে পুরোপুরি বিকল ঘোষণা করা হয় ২০১৯ সালের ১৯ মার্চ। এটি স্থাপন করা হয় ২০১২ সালের ২ মার্চ। সিমেন্স কোম্পানির সিঙ্গেল স্লাইস মডেলের দ্বিতীয় সিটি স্ক্যান মেশিন পুরোপুরি বিকল হয়েছে ২০১৯ সালের ৩০ আগস্ট। এটি স্থাপন করা হয় ২০০৬ সালের ৯ জুলাই। এটিও বেশ কয়েকবার মেরামত করে চালানো হয়েছিল। সিটি স্ক্যান বন্ধ হওয়ার আগে পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, প্রতিদিন ৩৫ থেকে ৪০ জন রোগী বিভিন্ন রোগ নির্ণয়ে সিটি স্ক্যান করতে আসত।

রেডিওলজি অ্যান্ড ইমেজিং বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. নাজমুন নাহার স্বীকার করেন, মেশিন নষ্ট হওয়ায় বর্তমানে সিটি স্ক্যান বন্ধ আছে। তিনি আরো বলেন, মেশিনারিজ জিনিস যেকোনো মুহূর্তে খারাপ হতে পারে। তবে সিটি স্ক্যান মেশিনগুলো সম্পর্কে সবসময় তারা তাদের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করে আসছেন।

ইনস্টিটিউট অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন অ্যান্ড অ্যাপ্লায়েড সায়েন্সেসের প্রধান ডা. মো. মোরশেদ আলী বলেন, গুরুতর রোগীদের জটিল রোগ নির্ণয় করতে সিটি স্ক্যান করা খুবই জরুরি।

রমেক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. রেজাউল করিম বলেন, সিটি স্ক্যান মেশিন সারানোর অবস্থায় নেই। কবে নাগাদ সিটি স্ক্যান মেশিন আনা হবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ পাওয়া না গেলে আগামী অর্থবছরে পাওয়া যাবে। সিস্টেম অনুযায়ী আমরা কাজ করছি।’