সিরাজগঞ্জ
২৫০ শয্যার বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসক,
সেবিকাসহ কর্মকর্তা-কর্মচারী সংকটে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। এছাড়া পরিচ্ছন্নতাকর্মীর অভাবে হাসপাতালটি নিয়মিত পরিষ্কার করা হয় না। এতে
হাসপাতালে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়েছে। জেলা সদরের এ সরকারি হাসপাতালে
প্রতিদিন ছয় শতাধিক রোগী
বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকে। ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও এখানে প্রতিদিন ভর্তি থাকছে প্রায় ৩৫০ রোগী। জায়গা না হওয়ায় অনেক
সময় রোগীকে মেঝেতে রেখে চিকিৎসা সেবা দিতে হচ্ছে। কিন্ত প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসকসহ বিভিন্ন বিভাগের জনবল সংকটের কারণে চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, হাসপাতালে চিকিৎসকের মোট ৫৮টি পদের মধ্যে এখন রয়েছে ৪০ জন। চিকিৎসকের ১৮টি পদ শূন্য রয়েছে। এর মধ্যে মেডিসিন সিনিয়র কনসালট্যান্ট, ইএনটি ও গাইনি কনসালট্যান্ট নেই। সার্জারি বিভাগে দুজনের মধ্যে রয়েছেন একজন। প্রশাসনিক কর্মকর্তার পদটি শূন্য রয়েছে দুই বছর, অফিস সহকারীর পদটি শূন্য রয়েছে তিন বছর। চলতি বছরের মে মাস থেকে কোষাধ্যক্ষের পদ শূন্য রয়েছে। শূন্য রয়েছে ১১ জন সেবিকার পদ। চারজন বাবুর্চির মধ্যে রয়েছে দুজন। এছাড়া ৬৫ কর্মচারীর পদ ১ জুলাই থেকে শূন্য রয়েছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে দুই শিফটে ৬৫ জন কর্মচারী কাজ করতেন। চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদ ৩০ জুন শেষ হওয়ায় ১ জুলাই থেকে কর্মচারীরা আর কাজ করছেন না। শূন্যপদগুলোর মধ্যে রয়েছে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা কর্মচারী, ওয়ার্ড বয়, নৈশপ্রহরী, অ্যাটেনডেন্ট ও সুইপার। রাতে প্রহরী না থাকায় হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘চিকিৎসক ও জনবল সংকটের কারণে রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা দেয়া যাচ্ছে না। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ পদগুলোয় দ্রুত জনবল নিয়োগ দেবে বলে আশা করছি।’
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ড. রতন কুমার রায় বলেন, ‘প্রয়োজনীয় চিকিৎসকসহ জনবল না থাকায় চিকিৎসা সেবা ও হাসপাতালের দৈনন্দিন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এখানে প্রতিদিন শত শত রোগী চিকিৎসা সেবা নিতে আসে। ২৫০ শয্যার হাসপাতাল হলেও প্রতিদিন গড়ে ভর্তি থাকছে ৩৪০ রোগী। বহির্বিভাগে চিকিৎসা সেবা নিচ্ছে ছয় শতাধিক রোগী। বিভিন্ন বিভাগে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও অফিস সহকারীর পদ খালি দীর্ঘদিন। এছাড়া কোষাধ্যক্ষের পদ খালি রয়েছে তিন মাস।এভাবে হাসপাতাল পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তার পরও আমরা সেবার মান ঠিক রেখে কাজ করে যাচ্ছি। জনবল সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এছাড়া চতুর্থ শ্রেণীর ৬৫ কর্মচারীর পদ শূন্য থাকায় এ হাসপাতাল পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখাসহ অন্যান্য কাজে সংকট সৃষ্টি হয়েছে। মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছি। আশা করছি, শিগগিরই সব সমস্যার সমাধান হবে।










