বান্দরবান সদর উপজেলার কুহালং ইউনিয়নে একটি পুকুর পাহাড়ের মাটি দিয়ে ভরাট করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুকুরটি ভরাট করছেন বান্দরবান পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন। তবে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
গত বৃহস্পতিবার সরেজমিনে দেখা যায়, জেলা শহর থেকে তিন কিলোমিটার দূরে বালাঘাটা-চড়ুইপাড়া সড়ক ঘেঁষা টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট ভবন। এ ভবনের পাশেই টিনের বেড়া দিয়ে ঘেরা একটি পুকুরে ট্রাকে করে আনা মাটি ফেলে ভরাটের কাজ চলছে। ট্রাকটির পিছু নিয়ে দেখা গেছে, পুকুরটি থেকে প্রায় অর্ধকিলোমিটার দূরে ফজরআলী পাড়ার একটি পাহাড়ের একাংশ এক্সক্যাভেটর দিয়ে কাটা হচ্ছে। সেই মাটি একাধিক ট্রাকযোগে নিয়ে পুকুরটি ভরাট করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা জানায়, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে পাহাড় কাটা মাটি দিয়ে পুকুর ভরাট করছেন বান্দরবান পৌরসভার ১নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন। পুকুরটি কুহালং ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট ঘেঁষা তার পৈতৃক ভিটায়। পাহাড় কেটে এ মাটি বিক্রি করছেন আব্দুল মোমেন ও এমরান নামের দুই ব্যক্তি।
জানতে চাইলে পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করার কথা স্বীকার করেছেন আব্দুল মোমেন। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এক্সক্যাভেটর মেশিনটি তার নিজের। এটি ঘণ্টায় ১ হাজার ৭৫০ টাকায় ভাড়া দেয়া হয়। প্রতি গাড়ি মাটির দাম দূরত্বভেদে নির্ধারণ করা হয়। চলমান ওই কাজে প্রতি ট্রাক মাটি ৬৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে।’
সেলফোনে কথা হলে অভিযোগ অস্বীকার করেন কাউন্সিলর নাসির উদ্দিন। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পুকুরটি আমাদের পৈতৃক ভিটায় হলেও মূলত আমার ছোট ভাই নাজিম উদ্দিন ও বোনের ভোগদখলে রয়েছে।’
এ বিষয়ে সেলফোনে কথা হলে নাজিম উদ্দিন পুকুর ভরাটের বিষয় স্বীকার করে বলেন, ‘পাহাড় আমি কাটি নাই, আমি টাকা দিয়ে মাটি কিনে নিজের পুকুর ভরাট করছি।’
অবৈধভাবে পাহাড় কাটা, পুকুর ভরাট ও প্রাকৃতিক জলাধার নষ্ট করা নিষিদ্ধ বলে জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তর বান্দরবানের সহকারী পরিচালক মো. ফখর উদ্দিন চৌধুরী। তিনি বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরেজমিনে তদন্ত করে পাহাড় কাটা ও পুকুর ভরাটের সত্যতা মিলেছে। আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।’










