টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমান্তের নাফ নদীর ওপারে আবারো শোনা গেছে গুলি ও মর্টার শেলের বিকট আওয়াজ। তবে ঘুনধুম সীমান্তের ওপারে নতুন করে কোনো গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়নি। তার পরও সীমান্তের এপারে রকেট লঞ্চার আতঙ্ক। গতকাল সকালেও অবিস্ফোরিত দুটি রকেট লঞ্চার পাওয়া গেছে। এদিকে সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বিজিবি।

হোয়াইক্যং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুর আহমদ আনোয়ারী জানান, শনিবার সকালে ইউনিয়নের লম্বাবিল, উনচিপ্রাং, কানজরপাড়া সীমান্তের নাফ নদের ওপারে গুলিবর্ষণ, মর্টার শেল বিস্ফোরণের বিকট শব্দ শোনা গেছে। যতদূর জানা গেছে ভোরে সীমান্তের ওপারে মিয়ানমারের কুমিরখালী এলাকায় সংঘর্ষে গুলিবর্ষণ ও মর্টার শেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এপারের লম্বাবিল ও উনচিপ্রাং এলাকায়ও কয়েকটি গুলি এসে পড়েছে।

বান্দরবানের ঘুনধুম সীমান্তে নতুন করে কোনো গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়নি। ঘুনধুমের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আজিজ জানান, মিয়ানমারের বর্তমান পরিস্থিতিতে ঘুনধুম সীমান্তে একের পর এক রকেট লঞ্চার পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল সকালেও নতুন করে দুটি অবিস্ফোরিত রকেট লঞ্চার পাওয়া গেছে, যা লাল পতাকা দিয়ে ঘিরে রেখেছে বিজিবি। এর আগে আরো দুটি রকেট লঞ্চার পাওয়া গিয়েছিল। পরে সেগুলো নিষ্ক্রিয় করা হয়।

ঘুনধুম সীমান্তের বাসিন্দা আব্দুর রহমান বলেন, ‘গোলাগুলো যে কতটা মারাত্মক তা কেউ জানে না। এগুলো যে বিস্ফোরক তাও জানে না সীমান্তের অনেক বাসিন্দা ও শিশু। তাই সবার মাঝেই ছড়িয়ে পড়েছে আতঙ্ক।’

এদিকে গতকাল ভোরে হোয়াইক্যং উত্তরপাড়ার হোছেন আলীর মুদির দোকানে, হাইওয়ে রোডের পাশে হোয়াইক্যং মাঝের পাড়া আবছারের বাড়িতে ও উত্তরপাড়া ধলু মিয়ার বাড়িতে গুলি এসে পড়ে। মিয়ানমার থেকে ছোড়া এসব গোলা ও গুলিতে এ পর্যন্ত বাংলাদেশী এক নারীসহ দুজন নিহত হয়েছেন। গুলিবিদ্ধ হয়েছেন অন্তত নয়জন। তবে উখিয়ার পালংখালীর পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন পালংখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গফুর উদ্দিন চৌধুরী।

সীমান্তে গোলাগুলির মধ্যেই ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ঘুনধুম উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষা নেয়ার প্রস্তুতি প্রশাসনের। কেন্দ্রটি ঘুনধুম সীমান্তের পাশে হওয়ায় মিয়ানমারের অভ্যন্তরে গোলাগুলি হলেও কেঁপে ওঠে স্কুল আঙিনাসহ পুরো এলাকা। 

স্থানীয়রা জানায়, মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে সপ্তাহ দেড়েক ধরে গোলাগুলিতে ঘুনধুম ও তুমব্রু সীমান্ত পয়েন্ট উত্তপ্ত। এর মধ্যেই ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে অনুষ্ঠিতব্য এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে চিন্তিত ঘুনধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক ও অভিভাবকরা। বিদ্যালয়টি কেন্দ্রের সচিব ঘুনধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক খাইরুল বশর বলেন, ‘কেন্দ্রটিতে অংশ নিচ্ছে তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মোট ৫০২ পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে ঘুনধুম উচ্চ বিদ্যালয়ের পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৬৪, কুতুপালং উচ্চ বিদ্যালয়ের ২৩৩ ও বালুখালী কাশেমিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০৫ পরীক্ষার্থী।’

ঘুনধুম-তুমব্রু সীমান্ত এলাকায় কয়েকদিন ধরে টানা সংঘাতের পর শুক্রবার থেকে উত্তেজনা কমে এসেছে। মঙ্গলবার রাখাইন রাজ্যটির নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে আরাকান আর্মি। ফলে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমার সীমান্তের সামরিক টহল চৌকিগুলোয় এখন রয়েছে আরাকান আর্মির সদস্যরা, যারা মূলত বিদ্রোহী গোষ্ঠী।

বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফুল ইসলাম বলেন, ‘মিয়ানমারে চলা সংঘাত তাদের অভ্যন্তরীণ কোন্দল। এতে আমাদের আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।’ 

বিজিবির টেকনাফ ২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মহিউদ্দীন আহমেদ জানান, মিয়ানমারে সংঘাতের জের ধরে শনিবার দুপুরে টেকনাফের নাফ নদের সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টাকালে দুই রোহিঙ্গা নারীকে স্বদেশে ফেরত পাঠিয়েছে বিজিবি। এ নিয়ে দুদিনে চার রোহিঙ্গা নাগরিককে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।