পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন; পানি সম্পদ এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, ডিগ্রি অর্জনের মূল লক্ষ্য কেবল ভালো বেতন বা সুযোগ সুবিধা নয়। বরং পরিবার, সমাজ, দেশ ও প্রকৃতির প্রতি দায়িত্ববোধ নিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করাই হওয়া উচিত নতুন প্রজন্মের প্রধান অঙ্গীকার। পরিবর্তন কখনো স্বয়ংক্রিয়ভাবে আসে না জানিয়ে তিনি বলেন, মূল্যবোধ, দায়িত্ববোধ ও ব্যক্তিগত আচরণের পরিবর্তনের মাধ্যমেই একটি দেশ এগিয়ে যায়।
রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর আন্তর্জাতিক কনভেনশন সিটি বসুন্ধরায় অনুষ্ঠিত সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির ‘দ্বিতীয় সমাবর্তন ২০২৫’-এ সমাবর্তন বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
শিক্ষাজীবন থেকে কর্মজীবনে প্রবেশকে জীবনের একটি ‘ডিফাইনিং মোমেন্ট’ উল্লেখ করে উপদেষ্টা বলেন, কর্মজীবন বেছে নেওয়ার সময় নিজের কাছে প্রশ্ন রাখতে হবে—এ পথ দিয়ে আমি দেশ ও মানুষের জন্য কী করতে পারি।
নদী, বন ও জীববৈচিত্র্য মানুষের সৃষ্টি নয়; তাই উন্নয়নের নামে এগুলো ধ্বংস করার কোনো অধিকার আমাদের নেই বলেও জানান পরিবশে উপদেষ্টা। রাজনীতি সচেতন ও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বিভাজনের রাজনীতি নয়—জাতীয় ঐক্য, সংলাপ ও সহনশীলতার পথেই দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ও সভাপতির বক্তব্যে অন্তর্বর্তী সরকারের শিশু বিষয়ক ও সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শারমিন এস. মুরশিদ বলেন, সমাজে নারীপুরুষকে সমানভাবে এগিয়ে চলতে হবে। গণতান্ত্রিক সমাজ বিনির্মানে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
আয়োজনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মেসবাহুদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন সোনারগাঁও ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল আজিজ, জেনারেল সেক্রেটারি ও প্রতিষ্ঠাতা ইঞ্জিনিয়ার মো. আব্দুল আলিম, ট্রাস্টি বোর্ডের কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যাডভোকেট উম্মে সালমা, উপদেষ্টা আজিজুল বারী (শিপু), এল. মীর আবদুল আলিম, উপাচার্য প্রফেসর শামিম আরা হাসান, উপ-উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর বুলবুল আহমেদ, ট্রেজারার প্রফেসর ড. মোহাম্মদ একরামুল ইসলামসহ ডিন, বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
সমাবর্তনে স্প্রিং-২০২১ থেকে সামার-২০২৫ পর্যন্ত বিভিন্ন প্রোগ্রামের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এ বছর ১৩ জন শিক্ষার্থীকে চ্যান্সেলরস গোল্ড মেডেল ও ৮৩ জন শিক্ষার্থীকে ভাইস-চ্যান্সেলরস গোল্ড মেডেলসহ মোট ৯৬ জন কৃতী শিক্ষার্থীকে স্বর্ণপদক দেয়া হয়।










