ঝিনাইদহের মধ্যে সবচেয়ে বেশি পেঁয়াজ আবাদ হয় শৈলকুপা উপজেলায়। চাষাবাদে আধুনিক পদ্ধতি ব্যবহারে মসলাজাতীয় পণ্যটির উৎপাদন বেড়েছে। তবে সংরক্ষণের আধুনিক পদ্ধতি না থাকায় মৌসুমের শুরুতেই উৎপাদিত ফসলের অধিকাংশ পাইকারদের কাছে কম দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন চাষীরা। মৌসুম শেষ হতেই ফসলের দাম বেড়ে গেলেও তার সুফল পান না তারা। এবার পেঁয়াজ সংরক্ষণে বেশ সাড়া ফেলেছে কৃষকের এসি হিসেবে খ্যাত এয়ার ফ্লো পদ্ধতি। মেশিনটি স্থাপনে খরচও অনেক কম। চাষী ও ব্যবসায়ীরা অল্প জায়গায় এ পদ্ধতিতে অধিক পরিমাণ পেঁয়াজ সংরক্ষণ করতে পারছেন।
স্থানীয় চাষীরা জানান, একটি এয়ার ফ্লো মেশিনে মাত্র ১০-১২ ফুট জায়গায় ৩০০-৩৫০ মণ পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যায়। সনাতন পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করলে বেশিদিন ভালো থাকে না। শুকিয়ে প্রতি মণে ১০-১২ কেজি ওজন কমে যায়। তবে এ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ করলে ঘাটতি কম হয়। সংরক্ষণও করা যায় আট-নয় মাস। প্রতিদিন ১০-১২ ঘণ্টা চালু রাখতে হয় মেশিনটি। মাসে ৫০০-৬০০ টাকা বিদ্যুৎ খরচের বাইরে আর কোনো অতিরিক্ত ব্যয় নেই।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ষষ্টি চন্দ্র রায় জানান, এ বছর এয়ার ফ্লো প্রযুক্তিটি সম্প্রসারণের জন্য তারা কাজ করছেন। এ পদ্ধতি ব্যবহার করতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। দিন দিন পদ্ধতিটির চাহিদাও বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান জানান, এয়ার ফ্লো পদ্ধতিতে অল্প জায়গায় অধিক পরিমাণ পেঁয়াজ সংরক্ষণ করা যাবে। কেউ কেউ এ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণ শুরু করেছেন। সাধারণ পদ্ধতিতে পেঁয়াজ সংরক্ষণে বছরে পচন ও শুকিয়ে ঘাটতি হয় ৩০ শতাংশ। নতুন পদ্ধতিতে ঘাটতি হবে মাত্র ৫ শতাংশ। সারা দেশে এ পদ্ধতি চালু হলে আমদানি নির্ভরতা কমবে।










