একক দেশ হিসেবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় পোশাকের বাজার যুক্তরাষ্ট্রে চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন) বাংলাদেশ থেকে পোশাক আমদানি প্রায় ৬ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী দেশ ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া রফতানিতে প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের ওপর প্রতিযোগিতার চাপ অব্যাহত রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগের অধীন অফিস অব টেক্সটাইলস অ্যান্ড অ্যাপারেল (ওটিইএক্সএ) প্রকাশিত সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি-জুন সময়ে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্র ৪২৫ কোটি ২৪ লাখ ডলারের পোশাক আমদানি করে। চলতি বছরের একই সময়ে তা কমে ৪০০ কোটি ৭৮ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশ থেকে ২৪ কোটি ৪৬ লাখ ডলারের কম পোশাক আমদানি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ৫ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

একই সময়ে গোটা বিশ্ব থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মোট পোশাক আমদানি ৮ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ কমে ৩ হাজার ৮১৫ কোটি ৪৫ লাখ ডলার থেকে ৩ হাজার ৫০৮ কোটি ৭২ লাখ ডলারে নেমে এসেছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের মোট আমদানিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম ছয় মাসেও যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় পোশাক সরবরাহকারী দেশ ছিল ভিয়েতনাম। দেশটি থেকে আমদানি ১ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ বেড়ে ৭৭৬ কোটি ৯৫ লাখ ডলার থেকে ৭৮৫ কোটি ৩১ লাখ ডলারে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশ দ্বিতীয় অবস্থান ধরে রাখলেও ব্যবধান কমিয়ে এনেছে তৃতীয় অবস্থানে থাকা চীন। যদিও যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পোশাক রফতানি সবচেয়ে বেশি কমেছে। প্রথম ছয় মাসে দেশটি থেকে আমদানি ৩৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ কমে ৫৭২ কোটি ৯৭ লাখ ডলার থেকে ৩৫৭ কোটি ২ লাখ ডলারে নেমে এসেছে।

অন্যদিকে ইন্দোনেশিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি ৩ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ২৩৩ কোটি ৬০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে। কম্বোডিয়ার রফতানি বেড়েছে ১২ দশমিক ৩২ শতাংশ। তবে ভারত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পোশাক আমদানি কমেছে ২৫ দশমিক ২৭ শতাংশ। এছাড়া মেক্সিকোতে ১০ দশমিক ৭৭, পাকিস্তানে ৩ দশমিক ৫০ এবং হন্ডুরাসে ৯ দশমিক ১৪ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

ওটিইএক্সএর তথ্য বলছে, বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার মধ্যেও ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া ও কম্বোডিয়া যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। বিপরীতে বাংলাদেশসহ চীন, ভারত, মেক্সিকো, পাকিস্তান ও হন্ডুরাস থেকে পোশাক আমদানি কমেছে।

যদিও বাংলাদেশের রফতানি হ্রাসের হার বৈশ্বিক আমদানি হ্রাসের তুলনায় কম, তবু প্রধান প্রতিযোগী দেশগুলোর ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের জন্য প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক সরবরাহকারী দেশের অবস্থান ধরে রাখতে রফতানি পুনরুদ্ধারে নতুন বাজার কৌশল, মূল্য প্রতিযোগিতা ও ক্রেতাদের আস্থা ধরে রাখার ওপর গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজনীয়তা আরো বেড়েছে।