এক সময় উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে বাংলাদেশী উচ্চশিক্ষা প্রার্থীদের প্রচুরসংখ্যক ফুল ফান্ডেড স্কলারশিপ দেয়া হতো। তবে বিভিন্ন পরিসংখ্যানে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটায় বাংলাদেশী শিক্ষার্থীদের জন্য সে সুযোগ দিনকে দিন সীমিত হয়ে আসছে। এমন পরিস্থিতিতে বিদেশে উচ্চশিক্ষার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য বৃত্তির প্রচলন করতে যাচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন (ইউজিসি)। সম্প্রতি এর জন্য অর্থ বরাদ্দ চেয়ে শিক্ষামন্ত্রীকে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন ইউজিসি চেয়ারম্যান।
ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস (এসডিজি) বাস্তবায়নে উচ্চশিক্ষায় ব্যাপক প্রসার চলমান রয়েছে। শিক্ষা ও গবেষণার পরিধির বিস্তৃতিকল্পে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগ্য ও মেধাবী শিক্ষকদের জন্য বৈদেশিক স্কলারশিপ অপরিহার্য। বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কমিশনের ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট ম্যানেজমেন্ট কমিটির (বিএমসি) সভায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের উত্কর্ষ ও গবেষণার মানোন্নয়নের প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে বৈদেশিক স্কলারশিপের জন্য অর্থ বরাদ্দ রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এমতাবস্থায় কমিশনের বাজেটে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের জন্য বৈদেশিক স্কলারশিপ বাস্তবায়নে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দ ও এ-সংক্রান্ত অর্থনৈতিক কোড খোলার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষামন্ত্রীকে কমিশনের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছে।
কমিশনের আর্থিক বিষয়গুলো দেখভাল করেন ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. আবু তাহের। বৈদেশিক স্কলারশিপ বিষয়ে জানতে চাইলে বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, উচ্চশিক্ষায় গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। এজন্য সরকারের পক্ষ থেকেও গবেষণা খাতকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা বরাদ্দ উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। শিক্ষা ও গবেষণায় উত্কর্ষ অর্জনে বৈদেশিক স্কলারশিপের বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দরিদ্র অর্থনীতির দেশ হওয়ার কারণে একসময় যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ উন্নত বিশ্বের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো থেকে বাংলাদেশীদের অনেক স্কলারশিপ দেয়া হতো। এখন সেটি অনেক কমে গেছে। এমনকি কমনওয়েলথের মতো স্কলারশিপের সংখ্যাও প্রতি বছর কমছে। তাই এখন দেশের অর্থায়নে বৈদেশিক স্কলারশিপ চালু করার বিষয়টি জরুরি হয়ে পড়েছে। যদিও এ খাতে বরাদ্দ দেয়ার জন্য কোনো কোডই নেই। তাই বৈদেশিক উচ্চশিক্ষার জন্য কোড সৃষ্টি করে আগামী বাজেটে এ খাতে বরাদ্দ রাখার জন্য মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে।
কমিশন সূত্রে জানা যায়, একটি নীতিমালা প্রণয়ন করে সেটির আলোকে বৈদেশিক স্কলারশিপ দেয়া হবে। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী শুধু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাই এ বৈদেশিক স্কলারশিপের আওতায় আসবে। এক্ষেত্রে যেসব শিক্ষক বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টিউশন ফি ছাড় নিতে পারবেন, তাদের সেখানে অবস্থান ও খাওয়া বাবদ যে অর্থ ব্যয় হবে, সেটি কমিশনের স্কলারশিপের মাধ্যমে বহন করা হবে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. কাজী শহীদুল্লাহ বণিক বার্তাকে বলেন, উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে গবেষণার বিকল্প নেই। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে গবেষণার পরিধি বৃদ্ধিসহ শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে এর প্রবণতা অনেকাংশে বেড়েছে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণের আগ্রহও অনেক। যদিও আর্থিক সক্ষমতার অভাবে অনেক শিক্ষকই উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশ যেতে পারে না। তাই আমরা আগ্রহী যোগ্য ও প্রশিক্ষিত শিক্ষকদের জন্য ফরেন স্কলারশিপ চালু করবে কমিশন। আশা করছি, আগামী অর্থবছর থেকেই আমরা এ বৃত্তি চালু করতে পারব।
বর্তমানে দেশে আরো দুটি বৈদেশিক স্কলারশিপ চালু রয়েছে। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী স্কলারশিপের প্রায় সবগুলোই দেয়া হয় সরকারি কর্মকর্তাদের। আর শুধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য বঙ্গবন্ধু ওভারসিস স্কলারশিপ চালু রয়েছে। সে হিসেবে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য কোনো ধরনের বৃত্তিরই ব্যবস্থা নেই। তাই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য বৃত্তি চালুর বিষয়টিকে খুবই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক বেলাল উদ্দীন বণিক বার্তাকে বলেন, ইউজিসির এমন উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এটা বিদেশে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের অনুপ্রাণিত করবে।










