বিশ্ববাজারে মূল্যবৃদ্ধি, ডলার ও ব্যাংকের তারল্য সংকটে আমদানিনির্ভর পণ্যের দাম বেশ কয়েক মাস ধরেই ঊর্ধ্বমুখী। এ সময়ে দেশে নিত্যপ্রয়োজনীয়সহ প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। গত বছর মূল্যবৃদ্ধির অস্থিরতায় আমদানীকৃত কেজিপ্রতি রসুনের দাম ২৫০ ও পেঁয়াজ ৫০ টাকা পর্যন্ত ওঠে। যদিও সম্প্রতি দেশীয় উৎপাদনকৃত পেঁয়াজ ও রসুন বাজারে আসা শুরু করা মাত্রই এ পণ্যগুলোর দাম দ্রুত হারে কমছে। একই অবস্থা ঘটেছে আলুর ক্ষেত্রেও। নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব পণ্যের দাম কমায় ভোক্তা পর্যায়ে স্বস্তি এলেও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন কৃষকরা।
দেশের বিভিন্ন জেলার পেঁয়াজ, রসুন ও আলুচাষীসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব পণ্য বিক্রি করে চাষের খরচও ওঠাতে পারছেন না তারা। এজন্য অনেকে আসন্ন রমজানে বাড়তি দামের আশায় খুব বেশি প্রয়োজন না হলে এ তিন নিত্যপণ্য বিক্রিও করছেন না। ব্যবসায়ীরা বলছেন, রবি মৌসুমের শেষ দিকে দেশে পুরোদমে পেঁয়াজ ও রসুন উৎপাদন শুরু হয়। এ সময়ে বিশ্ববাজার থেকেও একই রকম পণ্য সরবরাহ বেড়ে যায়। উভয়মুখী সরবরাহ চাপে পণ্যগুলোর দাম স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি কমে। আমদানিকারক ব্যবসায়ীরাও দেশীয় পণ্যের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় আমদানি করা পণ্যের দাম কমিয়ে দেয়। এতে দেশীয় কৃষকরা বড় ধরনের লোকসানে পড়েন। এজন্য দেশীয় উৎপাদন মৌসুমে নির্দিষ্ট পণ্যের আমদানিতে শর্ত আরোপ জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানতে চাইলে খাতুনগঞ্জের মেসার্স ইরা ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মো. ওমর ফারুক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘ভারতীয় পেঁয়াজ সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় চট্টগ্রাম অঞ্চলে। ভারতে পেঁয়াজের উৎপাদন সরবরাহ মৌসুম হওয়ায় সেখানেও দাম কম। ভারতীয় পেঁয়াজের জাত দেশীয় পেঁয়াজের চেয়ে বড় হওয়ায় চট্টগ্রামে চাহিদাও বেশি। এ পেঁয়াজের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমে দেশীয় পেঁয়াজের দাম কমিয়ে দিচ্ছে বেপারিরা। বর্তমান দামে পেঁয়াজ বিক্রি করলে কৃষক পর্যায়ে লোকসান হওয়ার শঙ্কা থেকে যায়।’
দেশে মসলাপণ্য পেঁয়াজ ও রসুন ২৫ লাখ টনের মতো উৎপাদন হয়, যা চাহিদার সঙ্গে অনেকটা সংগতিপূর্ণ। তবে সংরক্ষণজনিত সীমাবদ্ধতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে ১৫-২০ শতাংশ ভোক্তা পর্যায়ে পৌঁছাতেই পচে যায়, যার কারণে চাহিদার শতভাগ পূরণ করা সম্ভব হয় না। ফলে ভারত থেকে বছরের একটি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত এসব পণ্য আমদানি করতে হয়। দেশে পেঁয়াজের অন্যতম বাজার চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় ভারতীয় পেঁয়াজ। বর্তমানে ভারতীয় পেঁয়াজ খুচরা পর্যায়ে ৩০-৩২ টাকায় বিক্রি হলেও দেশীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকায়। পাইকারি পর্যায়ে এ ধরনের পেঁয়াজ লেনদেন হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৪-২৩ টাকা (মানভেদে)। মাঠ পর্যায়ে এর চেয়েও কম দামে পেঁয়াজ বিক্রি করায় উৎপাদন খরচের সঙ্গে তাল মেলাতে পারছেন না কৃষক। এতে কৃষকের লোকসান হওয়ায় আগামীতে উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
আলুর ক্ষেত্রেও একই চিত্র। দেশে প্রায় সব ধরনের ভোগ্যপণ্য ও কৃষিজ পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকলেও বর্তমানে আলু বিক্রি হচ্ছে ১২-১৫ টাকা কেজি। এক-দেড় মাস আগেও খুচরা পর্যায়ে প্রতি কেজি আলু ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। দেশে আলু উৎপাদনকারী জেলাগুলো থেকে পর্যাপ্ত আলু সরবরাহ হওয়ায় পাইকারি পর্যায়ে দাম কেজিপ্রতি ১১-১২ টাকায় নেমে এসেছে। আগামীতে সরবরাহ বাড়লে দাম আরো কমে যাওয়ার শঙ্কা দেখছেন ব্যবসায়ীরা। এক্ষেত্রে চট্টগ্রামের তুলনায় ঢাকার বাজারে দেশীয় পেঁয়াজের দাম কিছুটা বেশি।
দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার খাতুনগঞ্জে কেজিপ্রতি মেহেরপুরের পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৪ থেকে ১৭ টাকার মধ্যে। মুড়িকাটা জাতের এসব পেঁয়াজ খুচরা পর্যায়ে সর্বোচ্চ ২০ টাকায় বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে ফরিদপুর ও পাবনা জেলায় উৎপাদিত মুড়িকাটা পেঁয়াজ পাইকারি বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ২২-২৩ টাকায়। তবে বর্তমানে ভারত থেকে আমদানি হওয়া নাসিক জেলার পেঁয়াজ সরবরাহ বৃদ্ধিতে দাম কমে যাওয়ায় দেশের বাজারেও প্রভাব পড়েছে। পেঁয়াজের দাম উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমে গেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে এক মাস আগেও দেশে রসুনের দাম কেজিপ্রতি ২০০ টাকা ছাড়িয়ে গেলেও বর্তমানে একই মানের রসুন ১১০ টাকা কেজিতে নেমেছে। দেশীয় রসুন উৎপাদন-পরবর্তী সরবরাহ শুরু হলে আমদানীকৃত চীনা রসুন দাম কমে যায়। চীনা রসুনের দাম কমে যাওয়ার প্রভাবে কয়েক সপ্তাহ আগে কেজিপ্রতি ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হওয়া দেশীয় রসুনের দামও কমে ৭০-৭৫ টাকা কেজিতে নেমে এসেছে।
এদিকে চট্টগ্রামের সর্ববৃহৎ কৃষিপণ্যের পাইকারি বাজার রিয়াজউদ্দিন বাজারের আড়তদাররা জানিয়েছেন, এক সপ্তাহের মধ্যে নতুন মৌসুমের আলুর দাম কমতে কমতে কেজিপ্রতি ১১-১২ টাকায় ঠেকেছে। সরবরাহ যেভাবে বাড়ছে, তা অব্যাহত থাকলে নতুন আলুর দাম আরো কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাইকারি পর্যায়ে দাম কমে যাওয়ায় খুচরায় আলুর দাম ১৫ টাকা কেজিতে নেমে এসেছে। বর্তমানে চাহিদার তুলনায় অতিরিক্ত সরবরাহের কারণে হিমাগারে আলু মজুদের পরিবর্তে দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ বাড়িয়ে দেয়ায় বাজার দ্রুত কমছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।
খাতুনগঞ্জের সবচেয়ে পুরনো কৃষিপণ্য বিপণন বাজার হামিদউল্লাহ মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইদ্রিস বণিক বার্তাকে বলেন, ‘দেশে এমনিতে ডলারের তীব্র সংকট রয়েছে। তারল্য সংকটে আমদানি এলসি খুলতে পারছে না ব্যাংকগুলো। দেশে রবি মৌসুমে যেসব পণ্য উৎপাদন হয়, সেগুলো আগের মতোই আমদানি হচ্ছে ভারত কিংবা চীন থেকে। যার কারণে বর্তমান সময়ে দেশের কৃষকরা পেঁয়াজ, রসুন কিংবা আলু উৎপাদন করলেও ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন না। সরকারের উচিত অন্তত রবি মৌসুমের শেষার্ধে দেশে উৎপাদন হওয়া পণ্যগুলোর আমদানি নিয়ন্ত্রণ করা। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন না হলে আগামীতে দেশীয় উৎপাদন কমে গিয়ে আমদানিনির্ভরতা বাড়বে।’
চট্টগ্রাম ছাড়া অন্যান্য জেলায় খোঁজ নিয়েও একই চিত্র পাওয়া গেছে। কুষ্টিয়ায় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১৭-১৮ টাকা কেজি। কৃষকরা দাবি করছেন, উৎপাদন খরচ পড়েছে প্রতি কেজিতে ২৬-২৭ টাকা। অনেক কৃষক পেঁয়াজ মাঠে রেখে দিয়েছেন। জেলায় ১৫ হাজার ৪২০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে এবার। খোকসা উপজেলার নিশ্চিন্তবাড়িয়ার মীর মোরশেদুর রহমান ১৪ বিঘার বেশি জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। গত বছর সাত-আট বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করে লাভবান হয়েছিলেন। তাই এবার বাড়তি জমিতে চাষ করে লোকসান গুনছেন।
সংরক্ষণের অভাবে লোকসানের মুখে পড়েছেন মেহেরপুরের পেঁয়াজচাষীরাও। পেঁয়াজ বিক্রি করে খরচের টাকা উঠছে না চাষীদের। মোটা অংকের টাকা খরচ করে পুঁজি হারাতে বসেছেন জেলার পেঁয়াজচাষীরা। কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মেহেরপুর জেলায় ১ হাজার ৯৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। এর মধ্যে শুধু মুজিবনগর উপজেলায় ১ হাজার ১৫০ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়েছে। ভারতীয় সুখসাগর জাতের পেঁয়াজ চাষ করেছেন অধিকাংশ কৃষক।
জানা গেছে, আগেভাগে যারা পেঁয়াজ চাষ করেছেন তারাই পড়েছেন বিপাকে। ক্রেতা সংকটের পাশাপাশি একেবারেই কম মূল্যে কিনতে চাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে এক বিঘায় পেঁয়াজ চাষে সেচ, সার ও মজুরিসহ ৪০-৪৫ হাজার টাকা খরচ হলেও ব্যবসায়ীরা যে দাম বলছেন, তাতে খরচই উঠছে না। স্থানীয় বাজারে খুচরায় ২০ টাকা কেজি বিক্রি হলেও কৃষকরা পাচ্ছেন ১২ টাকা কেজি।
এ প্রসঙ্গে মুজিবনগর উপজেলার শিবপুর গ্রামের বিপ্লব হোসেন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় যদি একটি সংরক্ষণাগার থাকত তাহলে এই মুহূর্তে দাম না পেলেও আমরা সেখানে সংরক্ষণ করে রাখতে পারতাম। পরে ভালো দামে বেচতে পারতাম। শুধু একটি সংরক্ষণাগারের অভাবে আমাদের জেলার পেঁয়াজচাষীরা লোকসানের মুখে পড়ছেন।’
রাজশাহীর পবার পেঁয়াজচাষী সাইদুর রহমান জানান, পাইকারিতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ২০-২১ ও খুচরায় বিক্রি হচ্ছে ২৪-২৫ টাকা। কৃষকের প্রত্যাশা ছিল অন্তত ৪০-৪৫ টাকা কেজি পাবেন, তাহলে কিছুটা লাভের মুখ দেখবেন। দাম কমে যাওয়ায় পেঁয়াজ বিক্রি না করে অনেকে জমিতেই রেখে দিচ্ছেন। রমজানে যদি বেশি দাম পাওয়া যায়, তখন বিক্রি করবেন।
যশোরে চলতি ২০২২-২৩ অর্থবছরে পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৫ হাজার ৪০০ টন। যশোর আঞ্চলিক কৃষি অফিসের উপপরিচালক মঞ্জুরুল ইসলাম জানান, চলতি বছর যশোরে পেঁয়াজ আবাদ হয়েছে ১ হাজার ৩৪০ হেক্টরে, যা থেকে ১৫ হাজার ৪০০ টন পেঁয়াজ উৎপাদন হবে। গত বছর পেঁয়াজ উৎপাদন হয়েছিল ১৪ হাজার ৭৭৪ টন। মার্চের শেষে সব পেঁয়াজ বাজারে উঠবে। শহরের বড়বাজারের ব্যবসায়ী শংকর কুমার বলেন, ‘আমরা ৩০ টাকা কেজি দরে পেঁয়াজ বিক্রি করছি। বাজারে নতুন পেঁয়াজ এলে দাম কমতে পারে।’ সদর উপজেলার সাতমাইল এলাকার কৃষক আফজাল হোসেন জানান, তারা পেঁয়াজ পাইকারদের কাছে ২০-২৪ টাকা কেজিতে বিক্রি করছেন।
দেশের আলু উৎপাদনকারী অন্যতম জেলা বগুড়ায় ৫৩ হাজার ২১৫ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৩০ টন উৎপাদন হবে। আলুর পাইকারি দাম প্রতি কেজি ১৬ টাকা, খুচরায় ২০-২৪ টাকা। বগুড়া শহরের আশোকলার আলুচাষী খোকন হোসেন জানান, দাম কম হওয়ায় আলু স্টোরে রেখে দিচ্ছেন।
দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম আলু উৎপাদনকারী জয়পুরহাট জেলায় এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে আলু চাষ হয়েছে। নিবিড় বার্ষিক ফসল উৎপাদন কর্মসূচির আওতায় জেলায় এবার ৩৮ হাজার ৩৬৫ হেক্টর জমিতে আলু লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছিল কৃষি বিভাগ। এর বিপরীতে চলতি মৌসুমে ৩৮ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমিতে আলুর চাষ হয়েছে। এছাড়া আগাম জাতের আলুর চাষ হয়েছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার হেক্টর জমিতে। এবার মৌসুমের শুরুর পর থেকে আলুর দাম ভালো থাকলেও এখন কমতির দিকে। কালাই উপজেলার মুনসুর রহমান, আব্দুল আলীম, ফিতা মিয়ার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলার বৃহৎ আলুর বাজার নতুনহাটে খুচরায় প্রতি কেজি আলু ১৪-১৫ টাকা ও পাইকারি প্রতি কেজি ২০-২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ফরিদপুর শহরের রসুনচাষী মোসলেম উদ্দিন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘কিছুদিন আগেও রসুনের কেজি ছিল ১৪০ টাকা। এখন ১০০ টাকা হয়েছে। এতে ক্ষতিই বাড়ছে। আশায় আছি, দাম বাড়বে। আর না বাড়লে আগামীতে রসুন চাষ করব না।’
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (ক্রপস উইং) রবিউল হক মজুমদার বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রসুন, পেঁয়াজ আর আলুর ক্ষেত্রে যেহেতু এখন হারভেস্টিং টাইম চলছে, সে কারণে বছরের এ সময়টায় বাজারে জোগান বেশি থাকে। ফলে দাম কম থাকে। আবার উৎপাদন বাড়ছে। অল্প কিছু পরিমাণে আমদানি করতে হয়।’
প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়তা করেছেন কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, রাজশাহী, জয়পুরহাট, ফরিদপুর ও বগুড়া প্রতিনিধি










