আগামী জাতীয় নির্বাচন অবশ্যই নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনেই অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘এটি রাজনৈতিক সমঝোতা ও আন্দোলনের মূল অঙ্গীকার ছিল। সর্বোচ্চ আদালত থেকে ত্রয়োদশ সংশোধনী সম্পর্কিত যে রায় বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক দিয়েছিল সেটা বাতিল করেছে এবং জুডিশিয়ালি সেটা রিভাইভ (পুনর্বহাল) করেছে। লেজিসলেচার বা আইনসভার মাধ্যমে সংবিধানে প্রয়োজনীয় সংশোধনী এনে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনর্বহাল ও প্রতিস্থাপন করা হবে।’ 

শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠানের বিষয়ে গতকাল সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির এক উজ্জ্বল ও নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ও উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজা উদযাপিত হয়েছে।’ 

মন্ত্রী বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আগাম প্রস্তুতি ও প্রযুক্তিনির্ভর সার্বক্ষণিক নিবিড় তদারকির ফলেই এ বছর কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ছাড়াই উৎসব সম্পন্ন হয়েছে; যা আগামী বছরগুলোতেও বজায় থাকবে বলে আশা করছি।’ 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘১৫-১৭ বছর ধরে দুর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে নানা অপ্রীতিকর ঘটনা, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনাশের চেষ্টা দেখা যেত, তবে বর্তমান সরকার দেশকে সেই অপসংস্কৃতি থেকে মুক্ত করতে পেরেছে।’ 

মন্ত্রী বলেন, ‘এবার আগাম প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল। ডিজিটাল অ্যাপস ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে বিভাগীয় ও কেন্দ্রীয় পর্যায় পর্যন্ত সার্বক্ষণিক তদারকি করার ফলে নাশকতামূলক পরিকল্পনা আগেই নস্যাৎ করা সম্ভব হয়েছে।’ 

মন্ত্রী আরো বলেন, ‘বাংলাদেশের ইতিহাসে এবারই সর্বোচ্চসংখ্যক ৩৩ হাজার ৮৫১টি মণ্ডপে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উৎসবকে আরো আনন্দমুখর করতে সরকার নানা প্রশংসনীয় উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। আগে যেখানে সরকারি বরাদ্দ ছিল সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা, তা বাড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ বছর ৫ কোটি টাকায় উন্নীত করেছেন। এছাড়া প্রতিটি মণ্ডপের জন্য চালের বরাদ্দ ১০০ বাড়িয়ে ৬০০ কেজি করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাপ্তাহিক ছুটিসহ এ বছর পূজায় সনাতন ধর্মাবলম্বীরা টানা পাঁচদিনের ছুটি উপভোগ করেছেন, যার মধ্যে তিনদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল।’ 

গোপালগঞ্জ সদরের খেয়াঘাটসংলগ্ন এলাকায় সম্প্রতি ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ এবং তার অঙ্গ সংগঠন নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের কিছু সন্ত্রাসী টহলরত পুলিশের ওপর হামলার অপচেষ্টা চালায়। সংখ্যায় কম থাকায় পুলিশ আক্রান্ত হলেও ঘটনার ভিডিও ফুটেজ দেখে এরই মধ্যেই জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া শুরু হয়েছে।’ 

পার্বত্য অঞ্চলের (সাজেক) সাম্প্রতিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, বর্তমানে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও পুলিশ প্রয়োজনীয় কঠোর পদক্ষেপের পাশাপাশি স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়াসহ স্থানীয় নেতৃত্ব যৌথভাবে রাজনৈতিক আলোচনা অব্যাহত রেখেছেন।

একজন অতিরিক্ত ডিআইজির বাসভবনে অভিযান এবং ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে ৮৫ জনকে সাজা দেয়ার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘অভিযুক্ত কর্মকর্তার পরিচয় বিবেচনা না করে তাকে এরই মধ্যে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী বিভাগীয় মামলাসহ অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।’