বরিশালের উজিরপুর উপজেলার মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে সন্ধ্যা নদীর শাখা খাল। শুকনা মৌসুমে ফসল আবাদের জন্য প্রয়োজনীয় সেচের জোগান এ খাল থেকেই পাওয়া যায়। উজিরপুর ও গৌরনদী উপজেলার কয়েক হাজার কৃষক চাষাবাদের জন্য খালের পানির ওপর নির্ভরশীল। সম্প্রতি খালের একটি অংশ ভরাট করে সেখানে স্থাপন করা হয়েছে করাতকল। এর পাশেই বসানো হয়েছে পানের আড়ত। খাল ভরাটের কারণে বিঘ্নিত হচ্ছে পানিপ্রবাহ, যা সেচ সংকটকে প্রকট করে তুলেছে।
কৃষকরা বলছেন, সৈয়দ মামুন নামে এক ব্যক্তি খাল ভরাট করে করাতকল ও আড়ত স্থাপন করেছেন। খালে বাঁধ দেয়ার কারণে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শুকনা মৌসুমে খাল শুকিয়ে যাচ্ছে। আবার অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। উজিরপুর ও গৌরনদী উপজেলার কয়েক হাজার কৃষক সেচ সংকটে পড়েছেন। বিষয়টি স্থানীয়রা পরিবেশ অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে জানিয়েছেন। সম্প্রতি অধিদপ্তরের পরিচালক খালের অবস্থান বিষয়ে জানতে চেয়ে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অনুরোধ জানান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা ও পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিদর্শক কামাল মেহেদী সরজমিন খালটি পরিদর্শন করেন। খালের অবস্থান নির্ণয়ের সময় সৈয়দ মামুন হুমকি দেন বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
অবৈধভাবে খাল ভরাট করে করাতকল স্থাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সরকারি খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি জানতাম না। বিষয়টি জানার পর সরজমিন তদন্ত করতে এসে দেখি খালের ওপর বাঁধ দিয়ে করাতকল ও বাজার বসানো হয়েছে। সৈয়দ মামুন তদন্তকাজে বাধা দেয়ার পাশাপাশি আমাকে দেখে নেয়ার হুমকিও দিয়েছেন। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। খালে থাকা সব অবৈধ স্থপনা উচ্ছেদ করা হবে।’
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, করাতকলের ৯০ মিটারের মধ্যে সৈয়দ গনি আহমদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ১০০ মিটারের মধ্যে একটি মসজিদসহ জনবসতি রয়েছে। এজন্য করাতকলের লাইসেন্স বাতিল করেছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বন বিভাগ। করাতকলটি পরিবেশের জন্য হুমকি বলে মত দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা।
স্থানীয় বাসিন্দা হালিম হাওলাদারসহ কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করে বলেন, ‘খালটি আমাদের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। এর পানি আমরা কৃষিকাজে ব্যবহার করি। খালে বাঁধ দেয়ার কারণে কৃষিকাজ ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে শুকনা মৌসুমে খাল শুকিয়ে যাচ্ছে। আবার অতিবৃষ্টিতে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বাইতুন নূর জামে মসজিদের পাশে থাকা করাতকলের কারণে পরিবেশ দূষণ হচ্ছে।’
মসজিদ কমিটির সদস্য আলাউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা একাধিকবার করাতকল মালিককে বলেছি। প্রশাসনকেও বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু আজও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।’
অবৈধভাবে খাল ভরাট করে করাতকল স্থাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে সৈয়দ মামুন বণিক বার্তাকে বলেন, ‘পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বাতিল করায় আমি হাইকোর্টে মামলা করেছি। কোর্ট স্থগিতাদেশ দিয়েছেন।’
খাল ভরাটের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমি আমার নিজের জমি ভরাট করে করাতকল ও বাজার স্থাপন করেছি।’ তবে খাল ভরাট করে বাঁধ দেয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘এখানে খাল ছিল না।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে তদন্তকাজে বাধা ও হুমকির বিষয়ে জানতে চাইলে মামুন বলেন, ‘আমার কাছে একটি ভিডিও রয়েছে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে ভিডিওটি ছেড়ে দিব।’
খাল ভরাট করে করাতকল ও বাজার স্থাপনের বিষয়ে জানতে চাইলে বরিশাল পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক কাজী সাইফুদ্দিন বলেন, ‘সরকারি খাল ভরাট করে করাতকল স্থাপন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া এটি পরিচালনার বিষয়ে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’










