বাংলাদেশের
সবচেয়ে বড় ইপিজেড হিসেবে পরিচিত চট্টগ্রাম রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (সিইপিজেডএ)। বড় ইপিজেড হওয়া সত্ত্বেও এ অর্থনৈতিক অঞ্চলের ১৪৮টি কারখানা তাদের উৎপাদনে ব্যবহূত পানির জন্য কর্ণফুলী ইপিজেড, ডিপ টিউবওয়েল এবং ওয়াসার ওপর নির্ভরশীল ছিল। প্রতিদিনের চাহিদার ৬০ লাখ গ্যালন পানির প্রায় শতভাগই জোগাড় করতে হতো এ বিকল্প উৎস থেকে। তবে বিকল্প উৎসের ওপর নির্ভর না করে নিজেরাই প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপন করেছে সিইপিজেডএ। এ প্লান্ট চালু হওয়ায় এখন বিকল্প উৎস থেকে পানি সংগ্রহের দরকার পড়বে না সিইপিজেডএর কারখানাগুলোর।
খাতসংশ্লিষ্টরা
বলছেন, দেশের সবচেয়ে বড় ইপিজেড হওয়া সত্ত্বেও পানির জন্য অন্য উৎসের ওপর নির্ভর করা সমীচীন নয়। রফতানিমুখী কারখানার উৎপাদনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো পানির প্রাপ্যতা ও পর্যাপ্ততা। যেখানে এত দিন সিইপিজেড পিছিয়ে ছিল। প্লান্টটির গত এক মাসের পরীক্ষামূলক পানি সরবরাহে ভালো সাড়া পাওয়া গিয়েছে। আজ বেপজার চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল আবুল কালাম মোহাম্মদ জিয়াউর রহমান প্রকল্পটির উদ্বোধন করবেন। মূলত ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমাতেই প্রকল্পটি বড় ভূমিকা রাখবে বলে মনে করেন তারা।
সিইপিজেডএর
তথ্যমতে, বাংলাদেশী ও বিদেশী মালিকানাধীন ১৪৮টি কারখানা সিইপিজেডে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব কারখানায় গড়ে প্রতিদিন পানির চাহিদা ৬০ লাখ গ্যালন পানি (এক গ্যালন = ৩ দশমিক ৭ লিটার)। কিন্তু সিইপিজেডের নিজস্ব ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট না থাকায় তারা কর্ণফুলী ইপিজেড, ওয়াসা এবং কারখানাগুলোর নিজস্ব ডিপ টিউবওয়েলের মাধ্যমে এ পানি সংগ্রহ করত। যার মধ্যে কর্ণফুলী ইপিজেড থেকে পাইপের মাধ্যমে ৩০ থেকে ৩২ লাখ গ্যালন, চট্টগ্রাম ওয়াসা থেকে দেড় থেকে দুই লাখ গ্যালন পানি এবং সিইপিজেডএর বিভিন্ন কারখানায় থাকা ১১২টি ডিপ টিউবওয়েলের মাধ্যমে বাকি ৩০ লাখ গ্যালন পানি সংগ্রহ করে থাকে।
‘কর্ণফুলী আরও’ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান সিগমা গ্রুপের কর্মকর্তারা জানান, ২০১৯-২০-এর দিকে সিইপিজেডএ ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট স্থাপনের কাজ শুরু হয়। সিগমা গ্রুপের মহাব্যবস্থাপক (প্রকল্প) তাজুল ইসলাম জানান, আমরা আগে চারটি ইপিজেডে পানি শোধনাগারের কাজ করেছি। এখন চট্টগ্রামের সিইপিজেডএর সঙ্গে যুক্ত। আমাদের এই প্লান্টের মাধ্যমে কর্ণফুলী নদী থেকে পানি সংগ্রহ করে সেরা পানি কারখানাগুলোয় গত এক মাস পরীক্ষামূলকভাবে জোগান দিয়েছি। প্রায় ৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
সিইপিজেডএর
নির্বাহী পরিচালক মশিউদ্দিন বিন মেজবাহ বণিক বার্তাকে বলেন, আমরা ভূগর্ভস্থ পানির চাপ কমানোর এই ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট নির্মাণ করেছি।










