ভারতে উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতীয় সাংস্কৃতিক সম্পর্ক পরিষদের (আইসিসিআর) বৃত্তিপ্রাপ্ত বাংলাদীশি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, ভারতে গিয়ে তোমরাই বাংলাদেশের দূত হবে। তিনি শিক্ষার্থীদের শুধু নিজ নিজ বিষয়ে সাফল্য অর্জন নয়, ভারতের বৈচিত্র্য সম্পর্কে জানার, দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব গড়ে তোলার এবং বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সংযোগের সেতুবন্ধ হিসেবে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

আজ মঙ্গলবার ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনে ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের আইসিসিআর বৃত্তিপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ভারতীয় হাইকমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনুষ্ঠানে ঢাকার ১২০ জনের বেশি শিক্ষার্থী অংশ নেন। তারা শিগগিরই ভারতে গিয়ে প্রকৌশল, ফার্মেসি, চারুকলা, সংগীতসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে পড়াশোনা শুরু করবেন।

দিনেশ ত্রিবেদী বলেন, আইসিসিআর বৃত্তির জন্য আবেদনকারীদের মধ্যে মাত্র ৬ শতাংশ এ সুযোগ পেয়েছেন। ভারত উন্মুক্ত হৃদয়ে এসব শিক্ষার্থীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত। ভারতে অধ্যয়ন তাদের দেশটির বৈচিত্র্যময় সমাজ ও সংস্কৃতিকে কাছ থেকে জানারও সুযোগ করে দেবে। তিনি শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, তারা মেধাবী সন্তানদের গড়ে তুলেছেন এবং উচ্চশিক্ষার জন্য ভারতের ওপর আস্থা রেখেছেন।

এ বছর বাংলাদেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ৭ হাজার সাতশোর বেশি আবেদনকারীর মধ্য থেকে মোট ৫৪১ জন শিক্ষার্থী আইসিসিআর বৃত্তির জন্য নির্বাচিত হয়েছেন। লিখিত দক্ষতা পরীক্ষা ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশন এবং বাংলাদেশে অবস্থিত সহকারী হাইকমিশনগুলো এ নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে।

নির্বাচিতদের মধ্যে ৫০০ জন স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ের স্টেম ও নন-স্টেম বিষয়ে অধ্যয়নের জন্য ‘সুবর্ণ জয়ন্তী’ বৃত্তি পেয়েছেন। এছাড়া ৩৮ জন ‘লতা মঙ্গেশকর ড্যান্স অ্যান্ড মিউজিক’ বৃত্তির আওতায় নৃত্য, সংগীত ও সংস্কৃতিবিষয়ক কোর্সে অধ্যয়নের সুযোগ পেয়েছেন। আরো তিনজন শিক্ষার্থী আইসিসিআরের ‘কোয়াড’ বৃত্তির আওতায় ভারতে স্নাতক পর্যায়ের স্টেম বিষয়ে পড়াশোনার সুযোগ পেয়েছেন।

আইসিসিআর বৃত্তি ভারত সরকারের অন্যতম প্রধান শিক্ষা কর্মসূচি। এর আওতায় বাংলাদেশের মেধাবী শিক্ষার্থীরা ভারতের বিভিন্ন শীর্ষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রকৌশল, বিজ্ঞান, সাহিত্য, মানবিক ও চারুকলাসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও পিএইচডি পর্যায়ে সম্পূর্ণ বৃত্তিতে অধ্যয়নের সুযোগ পান। এ বৃত্তির আওতায় শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য ফি বহন করার পাশাপাশি দৈনন্দিন ব্যয় নির্বাহের জন্য মাসিক ভাতাও প্রদান করা হয়।