রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে চলমান কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম। গতকাল বেলা সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ বুদ্ধিজীবী চত্বরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম। তিনি জানান, আজ থেকে তারা ক্লাস-পরীক্ষায় ফিরবেন। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িত শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে আবারো কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দেন তারা।

এর আগে দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষক ফোরামের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাদের সহযোগিতা প্রত্যাশা করে এবং জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরাম শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িতদের বিচার নিশ্চিতের দাবি জানায়।

এ বিষয়ে জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক ড. আব্দুল আলীম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। সেখানে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনায় যারা জড়িত তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে শাস্তির আওতায় আনা হবে বলে উপাচার্য আমাদের আশ্বাস দেন। পরে শিক্ষক ফোরামের সদস্যদের সঙ্গে পরামর্শ করে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি তাদের কথা রাখতে ব্যর্থ হয় তাহলে আমরা আবারো কঠোর আন্দোলনে যাব।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউট্যাব কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্মমহাসচিব অধ্যাপক ড. মো. খালেদউজ্জামান বলেন, ‘আমরা প্রশাসনের আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করেছি। তবে শিক্ষক লাঞ্ছনার ঘটনার সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত না হলে কঠোর আন্দোলনে যাব। পোষ্য কোটার বিষয়ে আমরা কোনো কথা বলতে চাই না।’

রাকসু নির্বাচন হবে কিনা—এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘রাকসু নির্বাচনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশন ভালো জানে। তবে সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে যা যা করণীয়, তা যদি প্রশাসন করতে পারে তাহলে অবশ্যই রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’

সার্বিক বিষয়ে রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, ‘রাকসু নির্বাচন আয়োজনের জন্য যাবতীয় প্রস্তুতি আমাদের রয়েছে। ১৬ অক্টোবরকে সামনে রেখে মাঝখানে কিছুটা সময় পাওয়া গেছে। এ সময়ের মধ্যে আমরা সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করব।’