গোপালগঞ্জে বাসের ধাক্কায় মাইক্রোবাসের পাঁচ যাত্রী নিহত হয়েছে। এছাড়া সড়ক দুর্ঘটনায় নীলফামারীতে দুজন ও রাজধানীতে একজনের প্রাণহানি ঘটেছে। গতকাল দিনের বিভিন্ন সময় এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছে বেশ কয়েকজন। বিস্তারিত প্রতিনিধিদের পাঠানো খবরে—
গোপালগঞ্জ: ঢাকা থেকে মাইক্রোবাসে করে সাতজন গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার গোপালপুরে আসছিল। বেলা ১১টার দিকে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের ছাগলছিঁড়া এলাকায় মাইক্রোবাসটিকে ধাক্কা দেয় বরিশাল থেকে ছেড়ে আসা একটি বাস। এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়েমুচড়ে তিন বোন, তাদের ভাবি ও মাইক্রোবাসচালক ঘটনাস্থলে মারা যান।
নিহতরা হলেন মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার দক্ষিণ গোপালপুর গ্রামের মৃত কাজী আবদুল হামিদের তিন মেয়ে নাছিমা বেগম (৬৫), আসমা বেগম (৫৮), সালমা বেগম (৬২) ও তাদের ভাবি কমল বেগম (৬৫) এবং মাইক্রোবাসচালক কুষ্টিয়ার আলমগীর হোসেন (৪০)।
মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক শফিকুল ইসলাম জানান, চার নারীসহ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া দুজনকে গুরুতর অবস্থায় রাজৈর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। পরে তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।
ভাঙ্গা হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক আবু নোমান জানান, চালক পালিয়ে গেলেও বাস ও মাইক্রোবাসটি জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করা হবে।
নীলফামারী: পিকআপের ধাক্কায় নীলফামারীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো তিনজন। গতকাল সকালে উপজেলা সদরের জোড়দরগা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন সৈয়দপুর উপজেলার বাঙ্গালীপুর নিজপাড়া এলাকার রিয়াজ উদ্দীনের ছেলে আবু তাহের (৫২) এবং নওগাঁর খাস নওগাঁ এলাকার আসাদ আলী প্রামাণিকের ছেলে নূরে আলম সিদ্দিকী। তাদের মধ্যে আবু তাহের জলঢাকা মৎস্য অফিসের অফিস সহককরী এবং নূরে আলম সিদ্দিকী মার্কেন্টাইল ব্যাংকের নীলফামারী শাখায় অফিসার পদে কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ জানায়, সৈয়দপুর থেকে চার যাত্রী নিয়ে অটোরিকশাটি নীলফামারীর দিকে যাচ্ছিল। সৈয়দপুর-নীলফামারী মহাসড়কের জোড় দরগা এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি পিকআপ অটোরিকশাটিকে ধাক্কা দেয়। এতে ঘটনাস্থলে অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হন।
ঢাকা: রাজধানীর খিলক্ষেতে ৩০০ ফুট সড়কে ট্রাকের সঙ্গে পিকআপের সংঘর্ষে মঞ্জুরুল ইসলাম (৪৫) নামে এক কাপড় ব্যবসায়ী নিহত হয়েছেন। এ সময় মঞ্জুরুলের মামা ইসলাম উদ্দিন (৬০) আহত হন। তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গতকাল বেলা সোয়া ১১টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মঞ্জুরের চাচাতো ভাই কাজী রবিন জানান, মঞ্জুরুলের বাড়ি নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার চাইতালু গ্রামে। নারায়ণগঞ্জের গাউছিয়া বানটি এলাকায় অপূর্ব বাটিক হাউজ এবং গাজীপুর চৌরাস্তায় তাওফিকা বাটিক হাউজ নামের দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক মঞ্জুরুল। সকালে একটি পিকআপে থ্রি-পিস নিয়ে গাজীপুর চৌরাস্তায় যাচ্ছিলেন তিনি। পিকআপটি ৩০০ ফুট পার হয়ে খিলক্ষেত থানার আওতাধীন এলাকায় পৌঁছলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে পিকআপের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে পিকআপটি উল্টে যায়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ক্যাম্পের পরিদর্শক বাচ্চু মিয়া জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় মঞ্জুরুল ও তার মামা ইসলাম উদ্দিনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মঞ্জুরুলকে মৃত ঘোষণা করেন।









