চট্টগ্রামের হাটহাজারীর আল-জামিয়াতুল আহলিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম (হাটহাজারী) মাদ্রাসার সামনে এক যুবকের অশালীন ভঙ্গিতে ছবি তুলে ফেসবুকে পোস্ট দেয়া নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। ওই পোস্টের পরপরই শনিবার সন্ধ্যায় এলাকাটিতে সড়ক অবরোধ ও বিক্ষোভ করে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা। এসময় জশনে জলুস থেকে ফেরা সুন্নীদের সঙ্গে কওমীপন্থীদের সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন।
জানা গেছে, একটি ফেসবুক আইডি থেকে হাটহাজারী মাদ্রাসার সামনে তোলা অশোভন ছবি পোস্ট করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে কওমিপন্থী ও স্থানীয়দের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ফটিকছড়ি থানা-পুলিশ ফেসবুকে পোস্টদাতাকে আটক করে। আটক হওয়া আরিয়ান পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। আটকের পর তিনি ভিডিও বার্তায় দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে ততক্ষণে এ নিয়ে সুন্নিদের সঙ্গে কওমীপন্থীদের রেষারেষী সংঘর্ষের পর্যায়ে পৌঁছায়।
স্থানীয়রা জানান, ছবি পোস্ট করার প্রতিবাদে হাটহাজারী পৌর এলাকার গোলচত্বরে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেন। এ সময় তারা সড়ক অবরোধ করে টায়ারে আগুন দেয় এবং বাস ভাঙচুর করেন। পরে জুলুস থেকে ফেরা সুন্নিপন্থীদের সঙ্গে হাটহাজারীর শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সংঘর্ষ হয়। এতে অন্তত ১৫ জন আহত হন। তাদের স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে চমেকে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন স্বাক্ষরিত আদেশে ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এতে বলা হয়েছে, হাটহাজারীর মীরের হাট থেকে এগারো মাইল সাবস্টেশন ও উপজেলা গেট থেকে কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট পর্যন্ত এবং এর আশপাশের এলাকায় আজ রাত ১০টা থেকে আগামীকাল রোববার দুপুর ৩টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি থাকবে। এ সময় ওই এলাকায় সব ধরনের সভা সমাবেশ, বিক্ষোভ মিছিল গণজমায়েত, বিস্ফোরক দ্রব্য, অগ্নেয়াস্ত্র ও সব ধরনের দেশী অস্ত্র ইত্যাদি বহনসহ সংশ্লিষ্ট এলাকায় ৫ বা ততোধিক ব্যক্তির একত্রে অবস্থান কিংবা চলাফেরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হলো।















