ছয় ঋতুর প্রথমেই আসে গ্রীষ্মকাল। বাংলা মাস হিসেবে গ্রীষ্মের ভাগে রয়েছে বৈশাখ ও জ্যৈষ্ঠ মাস। এ সময়ে রোদের উত্তাপ বেড়ে যায়। তাপমাত্রার পারদও বাড়তে থাকে। ঋতুচক্রে গ্রীষ্মকাল শুরু হতে এখনো সপ্তাহখানেক বাকি থাকলেও বাড়তে শুরু করেছে বাংলাদেশে মহাদেশীয় বায়ুপ্রবাহের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত চুয়াডাঙ্গার তাপমাত্রা। আবহাওয়া অফিসের তথ্য বলছে, গত তিনদিনের ব্যবধানে জেলায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে ২ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, ভৌগোলিক কারণেই জেলাটিতে শীত ও গরম দুটিই বেশি অনুভূত হওয়ার কথা। তবে প্রাকৃতিক এ কারণকে আরো প্রকট করে তোলে এখানকার জলাভূমি কমে যাওয়ার বিষয়টি। গত কয়েক দশকে জেলায় জলাভূমির পরিমাণ হ্রাস পেয়েছে আশঙ্কাজনক হারে। পর্যাপ্ত পরিমাণে জলাভূমি থাকলে সেখানকার পানি অধিক তাপ বা শৈত্যকে শোষণ করে আবহাওয়ার ভারসাম্য রক্ষা করতে পারত। কিন্তু এখানে জলাভূমির পরিমাণ দিন দিন কমতে থাকায় শীত ও গ্রীষ্ম উভয় মৌসুমেই জনজীবনে পরিস্থিতি অসহনীয় পর্যায়ে চলে যায়।
চুয়াডাঙ্গা প্রথম শ্রেণীর আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জামিনুর রহমান জানান, গতকাল বেলা ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৭ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময়ে বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ৪৩ শতাংশ। এর আগে শনিবার বেলা ৩টায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছিল ৩৮ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ২৭ শতাংশ। শুক্রবার তাপমাত্রা ছিল ৩৪ দশমিক ৮ ডিগ্রি। ১৩ মার্চ থেকে ৬ এপ্রিল পর্যন্ত জেলায় তাপমাত্রা ওঠানামা করছে ৩৪-৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত।
কয়েক মাস ধরেই দেশে বৃষ্টিপাত নেই। ঈদের পরদিন থেকে তাপমাত্রাও বাড়ছে। এমন তাপপ্রবাহ বোরো ধানে ব্লাস্ট রোগ সংক্রমণের ঝুঁকি তৈরি করেছে। অবশ্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে মাঠ পর্যায়ের কৃষকদের বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানান, তাপপ্রবাহ থেকে ধান রক্ষার জন্য জমিতে সব সময় ৫-৭ সেন্টিমিটার পানি ধরে রাখতে হবে।
জমিতে যেন পানির ঘাটতি না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। এ অবস্থায় ধানের শীষে ব্লাস্ট রোগের আক্রমণ হতে পারে। রোগের লক্ষণ প্রকাশ পাওয়ার আগেই প্রিভেনটিভ হিসেবে বিকালে ট্রপার ৮ গ্রাম ১০ লিটার পানি অথবা নেটিভো ৬ গ্রাম ১০ লিটার পানিতে মিশিয়ে ৫ শতাংশ জমিতে পাঁচদিনের ব্যবধানে দুবার করে স্প্রে করতে হবে। বোরো ধানের ক্ষতি এড়াতে মাঠ পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শের জন্য সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের সচেতন রাখা হয়েছে।
সদর উপজেলার কুতুবপুর ও ভুলটিয়া ব্লকের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা নাসির উদ্দিন জানান, তাপমাত্রা বেশি হওয়ায় সেচ বেশি সময় ধরে দেয়া লাগছে। এতে খরচ বেড়ে যাচ্ছে। জমিতে পরিমাণমতো পানি না থাকলে ধানে চিটা দেখা দিতে পারে, সে বিষয়ে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।










