কয়েকদিনের টানা বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার চারটি ইউনিয়নের ৩৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। পানি বন্দী হয়ে পড়েছে প্রায় ৩০ হাজারেরও বেশি মানুষ। এদিকে জেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত ধরলা, তিস্তা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি কিছুটা বাড়লেও এখনো বিপৎসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জিঞ্জিরাম, ধরনী ও কালজানি নদীর পানি বেড়ে সীমান্ত ঘেঁষা এ উপজেলার শৌলমারী, দাঁতভাঙ্গা ও যাদুরচর ইউনিয়নের অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়েছে।
এসব এলাকার রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। নৌকা করে যাতায়াত করতে হচ্ছে তাদের। বাদাম, পাট ও সবজিসহ বিভিন্ন ফসলের ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েছেন এখানকার কৃষকরাও। পাশাপাশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম জানান, রৌমারী উপজেলার ২১টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পানি ঢুকে পড়ায় শিক্ষা কার্যক্রম সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশরাফুল আলম রাসেল জানান, উজানের পানি বেশ কিছু গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। আরো নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তবে কি পরিমাণ মানুষ পানি বন্দি রয়েছে তা জানতে কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি পানি বন্দিদের সহায়তা অব্যাহত রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ্ আল মামুন জানান, কুড়িগ্রামে ব্রহ্মপুত্রের পানি নুন খাওয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ২০৬ সেন্টিমিটার ও চিলমারী পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৬৯ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপর দিকে ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপৎসীমার ১২৫ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে ও তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানের ঢলে ও বৃষ্টিতে রৌমারী উপজেলার কয়েকটি গ্রাম পানি ঢুকে পড়লেও আপাতত বড় ধরনের কোনো বন্যার সম্ভাবনা নেই। তবে আগামী ২০ থেকে ২৫ জুনের মধ্যে বন্যা দেখা দেয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।










