বাগেরহাটের সাইনবোর্ড-শরণখোলা মহাসড়কটির দৈর্ঘ্য ৫২ কিলোমিটার। মহাড়সক দিয়ে চট্টগ্রাম, খুলনা ও বেনাপোল রুটে যানবাহন চলাচল করে। তবে ১৬ কিলোমিটারে বড় বড় গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে যানবাহন। এতে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন যাত্রীরা।

স্থানীয়রা বলছেন, আমড়াগাছিয়া কাঠেরপুল থেকে তাফালবাড়ী শাম ব্যাপারীর বাড়ির ব্রিজ পর্যন্ত অংশটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দূরপাল্লার বাস ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা ও বেনাপোল রুটের পাশাপাশি পণ্যবাহী ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান, পিকআপ ও স্থানীয় যানবাহন চলাচল করে। তবে গর্তের কারণে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে চালকদের।

৫২ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে ২৪ ফুট প্রশস্ত ১৯ কিলোমিটার, ১৮ ফুট প্রশস্ত ১৭ কিলোমিটার এবং ১২ ফুট প্রশস্ত ১৭ কিলোমিটার। কিন্তু সরু এবং ভাঙা সড়কে চলাচল অনিরাপদ হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন চালকরা।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন হাওলাদার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় সড়কে চলাচল করা দুরূহ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় গর্তে পানি জমে দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরো বেড়ে যায়। দ্রুত সড়কটি প্রশস্ত ও সংস্কার করা প্রয়োজন।’

বাসচালক তাইজুল বলেন, ‘বড় বড় গর্তে গাড়ির চাকা আটকে যায়। অন্য গাড়িকে সাইড দিতে গিয়ে গাছের ডালে বাসের ছাদ লেগে যায়। এছাড়া গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে। এক কথায় সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।’

শরণখোলা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন মিলন বলেন, ‘শীত মৌসুমে সুন্দরবনে দর্শনার্থী বেশি আসে। পর্যটন মৌসুম শুরু হওয়ার আগে সড়ক সংস্কার ও প্রশস্ত করা জরুরি। তা না হলে পর্যটকদের ভোগান্তি বাড়বে।’

স্থানীয় বাসিন্দা জামাল নূর বলেন, ‘সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। একদিকে গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হচ্ছে, অন্যদিকে ভোগান্তি পোহাতে হয়। নামে আঞ্চলিক মহাসড়ক, কাজে না।’

এ ব্যাপারে বাগেরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘দরপত্র আহ্বানের মাধ্যমে শিগগিরই সড়ক সংস্কার ও প্রশস্তকরণের কাজ শুরু করা হবে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুদীপ্ত কুমার সিংহ বলেন, ‘বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। দ্রুত সড়ক সংস্কারের ব্যবস্থা করা হবে।’