মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের আওতায় জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের সব প্লাটফর্মের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এছাড়া সবশেষ শরীয়তপুরের মাঝিরকান্দি প্রান্তে ১০ নম্বর প্লাটফর্মটি সেতু কর্তৃপক্ষ পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেডের (পিজিসিবি) কাছে হস্তান্তর করেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, বর্তমানে আমিনবাজার-মাওয়া-মোংলা ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় অধিক উচ্চতার টাওয়ার নির্মাণকাজ চলছে।

বাংলাদেশ সেতু বিভাগের প্রকৌশলী কাজী মোহাম্মদ ফেরদৌস জানিয়েছেন, পদ্মা সেতু প্রকল্পের আওতায় এ টাওয়ারের প্লাটফর্ম নির্মাণে অর্থ সাশ্রয় হয়েছে। আমিনবাজার-মাওয়া-মোংলা ৪০০ কেভি সঞ্চালন লাইন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে জাতীয় গ্রিডে সরাসরি সংযুক্ত হচ্ছে পায়রা ও রামপাল কেন্দ্রের বিদ্যুৎ, যা জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে এ লাইনেই।

প্রকল্পের চীনা প্রকৌশলী ডিং হ্যায় ডং বলেন, বাংলাদেশের এত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত থেকে তা সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরে আমরা খুশি।

পদ্মায় এ সাত প্লাটফর্ম নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৮১৩ কোটি টাকা। পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, মূল সেতুর সঙ্গে সম্পৃক্ত এ ৮১৩ কোটি টাকার ৪০০ কেভি বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইনের প্লাটফর্ম নির্মাণ নানা কারণেই এ সেতু থেকে দুই কিলোমিটার ভাটিতে স্থাপন করা হয়েছে। আর স্টিলের স্ট্রাকচার থাকায় সেতু দিয়ে এ হাইভোল্টের সঞ্চালন লাইন দেয়া যায়নি। সেতুরই আদলে জার্মান হ্যামারে প্লাটফর্মগুলোর পাইল স্থাপন করা হয়েছে।

প্রকল্পের আওতায় রিভার ক্রসিং লাইন নির্মাণে পদ্মা নদীতে সাতটি টাওয়ারের ফাউন্ডেশন তথা প্লাটফর্ম করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি)।

এদিকে পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় দুই পাড়ে দুই থানার উদ্বোধন হতে যাচ্ছে আজ। চারতলাবিশিষ্ট থানা দুটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সিয়ের মাধ্যমে আজ সকাল ১০টায় উদ্বোধন করবেন। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন পদ্মা সেতু উত্তর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আলমগীর হোসাইন।

মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার পদ্মা সেতু টোলপ্লাজা প্রান্তে অবস্থিত পদ্মা সেতু উত্তর থানা ও শরীয়তপুরের জাজিরা প্রান্তে অবস্থিত পদ্মা সেতুর দক্ষিণ থানা দুটির উদ্বোধনে এরই মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

এরই মধ্যে থানা ভবন দুটিকে ধোয়ামোছা শেষে নান্দনিক সাজে সাজানোসহ সার্বিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। এ দুটি থানা মূলত সেতুর নিরাপত্তা এবং এর সংশ্লিষ্ট এলাকার সাধারণ মানুষের সার্বিক সহায়তার জন্য কাজ করবে। এছাড়া সেতুর পাশাপাশি দুই পাড়ের মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে। প্রতিটি থানায় একজন সহকারী পুলিশ সুপারসহ ৪০ জন করে পুলিশ সদস্য দায়িত্বে থাকবেন বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার আব্দুল মোমেন।

উল্লেখ্য, পদ্মা সেতুর দুই প্রান্তে থানার অবকাঠামো তৈরিতে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা। এক একর করে জমিসহ থানাভবন দুটি পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ পুলিশ বিভাগকে হস্তান্তর করে ২০১৯ সালের মে মাসে।