কুড়িগ্রামের হিমাগারগুলোয় ভাড়া বাড়ার প্রতিবাদে রাস্তায় আলু ফেলে অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন চাষী ও ব্যবসায়ীরা। গতকাল বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী বাজারে এ কর্মসূচি পালন করেন তারা। এ সময় প্রায় দেড় ঘণ্টা কুড়িগ্রাম-রংপুর সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ছিল। এতে দুর্ভোগে পড়েন সড়কে চলাচল করা গাড়িচালক ও যাত্রীরা। পরে উপজেলা প্রশাসন ও সেনাবাহিনীর আশ্বাসে অবরোধ তুলে নেন তারা।

চাষীরা বলছেন, বাজারে আলুর দাম কম থাকা সত্ত্বেও চলতি মৌসুমে অযৌক্তিকভাবে হিমাগারে ভাড়া বাড়িয়েছেন মালিকরা। বীজ, সার ও কীটনাশকের দাম বাড়ার ফলে প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে ব্যয় হয়েছে ২২ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি আলুতে হিমাগার ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ টাকা ৭৫ পয়সা। এ বছর উৎপাদন খরচ ও হিমাগার ভাড়াসহ সব মিলিয়ে প্রতি কেজি আলুতে খরচ পড়বে ২৯ টাকা। বর্তমানে বাজারে আলু বিক্রি হচ্ছে ১৫ টাকা কেজি দরে। এতে প্রতি কেজি আলুতে লোকসান গুনতে হচ্ছে ১৪ টাকা। এ অবস্থায় চরম ক্ষতির মুখে পড়েছেন চাষীরা। এজন্য হিমাগারে প্রতি কেজি আলুর ভাড়া ৫ টাকা নির্ধারণের দাবি জানান তারা।

সদর উপজেলার কাঁঠালবাড়ী এলাকার আলুচাষী হাসু জানান, গত বছর এক বস্তা আলুর ভাড়া ছিল ৩৫০ টাকা। এবার তা বাড়িয়ে ৪৫০ টাকার বেশি করা হয়েছে। এমনিতে আলুর দাম কম, আরো যদি হিমাগার ভাড়া বেশি হয়, তাহলে কীভাবে কৃষক বাঁচবে।

কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈদা পারভীন জানান, বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দেয়া হয়েছে। পরে কৃষকরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করে নেন। এছাড়া তাদের আজ ডাকা হয়েছে।