নরসিংদীতে দুই পক্ষের সংঘর্ষে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাদেকুর রহমানসহ দুই নেতা হত্যার ঘটনায় মামলা করা হয়েছে। এতে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন ও তার স্ত্রী বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানাসহ ৩০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরো ৩৫-৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। নিহত ছাত্রনেতা সাদেকুর রহমানের বড় ভাই আলতাফ হোসেন বাদী হয়ে গত শুক্রবার রাতে সদর মডেল থানায় মামলাটি দায়ের করেন। 

এদিকে মামলার আসামি জেলা যুবদলের সভাপতি মহসিন হোসেন বিদ্যুৎ, চিনিশপুরের ব্যবসায়ী কামাল হোসেন ও তার ভাতিজা রাসেল মিয়াকে শুক্রবার রাতে জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে পুলিশ। গতকাল নরসিংদীর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তুলে তাদের প্রত্যেকের সাতদিন করে রিমান্ড চাওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে আদালত আজ শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছেন।

এজাহার সূত্রে জানা যায়, নরসিংদী জেলা ছাত্রদলের জেলা কমিটি ঘোষণার পর থেকেই জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাদেকুর রহমান ও সিনিয়র সহসভাপতি মাইনুদ্দিন ভূঁইয়ার সঙ্গে বর্তমান সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান নাহিদ ও সদস্য সচিব রিফাতের বিরোধ চলছিল। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন প্রকাশ্যে নাহিদ ও রিফাতকে সমর্থন দিচ্ছিলেন। অন্যদিকে কমিটি ঘোষণার পর থেকে পদবঞ্চিতরা সাদেক ও মাইনুদ্দিনের নেতৃত্বে প্রতিবাদ মিছিল বিক্ষোভ সমাবেশ, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলনসহ শান্তিপূর্ণভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি ও আন্দোলন করেন। 

এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার দুপুরে সাদেক ও মাইনুদ্দিনের নেতৃত্বে পিকআপ ভ্যান ও শতাধিক মোটরসাইকেল নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন ছাত্রদলের পদবঞ্চিত নেতারা। বিক্ষোভ মিছিলটি জেলখানা মোড় হয়ে চিনিশপুর বিএনপির কার্যালয়ের সড়কে প্রবেশ করা মাত্রই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে খায়রুল কবির খোকনের নির্দেশে ওঁত পেতে থাকা সন্ত্রাসীরা মিছিলকারীদের ওপর ককটেল নিক্ষেপ করে। পরে তারা লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালিয়ে কয়েকজন নেতাকর্মীকে আহত করে। ওই সময় সন্ত্রাসীরা সাদেকুর রহমানকে ঘেরাও করে খুব কাছ থেকে তার মাথায় গুলি করে। এ ঘটনায় আশরাফুল নামে আরো একজনকে গুলি করা হয়। পরে তাদের উদ্ধার করে প্রথমে জেলা হাসপাতালে ও পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পথে সাদেকের মৃত্যু হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় একদিন পর শুক্রবার সকালে মারা যান অন্য ছাত্রদল নেতা আশরাফুল। 

এদিকে নিহত আশরাফুলের বাবা নাজমুল হক যদিও দাবি করেছেন তার ছেলের কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা ছিল না। গতকাল সন্ধ্যায় নরসিংদী প্রেস ক্লাবে এক লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমার ছেলে নিহত আশরাফুল ইসলাম কোনো রাজনীতির সঙ্গে জড়িত নয় এবং কোনো রাজনৈতিক দলের কর্মীও নয়। তার বয়স সাড়ে ১৬ বছর। সে নরসিংদী অরবিট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে প্রথম বর্ষের ছাত্র ছিল। ঘটনার দিন বিকালে তার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে বাড়ি ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।’

মামলায় যাদের আসামি করা হয়েছে তাদের বেশির ভাগই স্থানীয় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলসহ অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মী। এ বিষয়ে বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক খায়রুল কবির খোকন বলেন, ‘বিএনপিকে দমন করতেই এমন মামলা করা হয়েছে। জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি হওয়ার পর থেকে পুলিশের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে ও দলীয় কিছু নেতাদের মদদে তারা আমাদের ওপর একের পর এক হামলা চালিয়ে আসছে। এখন তারা নিজেরা নিজেরাই এসব ঘটনা ঘটিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে বলছে।’