খুলনায় পুলিশের সঙ্গে বিএনপি নেতাকর্মীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১৫ জন আহত হয়েছেন। গতকাল বিকালে খুলনা প্রেস ক্লাবের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
এ সময় ঘটনাস্থল থেকে বিএনপির ১০ নেতাকর্মীকে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে সংঘর্ষের সময় পুলিশ গুলি ছুড়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন বিএনপি নেতারা।
প্রেস ক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে খুলনা মহানগর বিএনপির সভাপতি শফিকুল আলম মনার সভাপতিত্বে সেখানে উপস্থিত ছিলেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় নেতা আজিজুল বারী হেলাল, শামিমুর রহমান শামীম, খুলনা মহানগরের সদস্য সচিব শফিকুল ইসলাম তুহিন, জেলা বিএনপির সভাপতি আমীর এজাজ খান, সদস্য সচিব মনিরুল হাসান বাপ্পীসহ মহানগর ও জেলার নেতাকর্মীরা।
খুলনা নগর বিএনপির সদস্য সচিব শফিকুল আলম তুহিন অভিযোগ করে বলেন, ‘সরকারের পদত্যাগ, গায়েবি মামলা ও গণগ্রেফতার বন্ধসহ ১০ দফা বাস্তবায়নের দাবিতে দুপুরে প্রেস ক্লাব চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ আহ্বান করা হয়। সমাবেশে বিএনপির নেতাকর্মীদের মিছিলে পুলিশ বাধা দেয়। এরপর পুলিশ লাঠিপেটা করে এবং কাঁদানে গ্যাস ও গুলি ছোড়ে।’
তুহিন বলেন, ‘দিঘলিয়া সেনাহাটি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মুজিবুর রহমান, খালিশপুর বিএনপির নেতা রিপন, যুবদল নেতা জাহিদুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধ ও অনেক নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাদের স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।’
তবে পুলিশ বলছে, বিএনপি নেতাকর্মীরা পুলিশের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেছে। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে। খুলনা নগর পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ প্রেস ক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলের ভেতরে বিএনপির কর্মিসভা ছিল। রাস্তায় কোনো কর্মসূচির অনুমতি ছিল না। সেখানে বিকালে বিএনপির শীর্ষস্থানীয় নেতারা এলে দলের নেতাকর্মীরা প্রেস ক্লাবের সামনের সড়কের ওপর বসে অবরোধ করেন। এ সময় পুলিশ একটু পিছিয়ে যায়। একপর্যায়ে পুলিশকে লক্ষ্য করে বিএনপির নেতাকর্মীরা ইটপাটকেল ছোড়েন। এ সময় পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট ছোড়ে।’
মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম আরো বলেন, ‘বিএনপির হামলায় পুলিশের বেশ কয়েকজন সদস্য আহত হয়েছেন। পরে ঘটনাস্থল থেকে বিএনপির ১০ নেতাকর্মীকে আটক করা হয়েছে।’
গতকাল রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি জানান, আটকদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।










