চলতি বর্ষা মৌসুমে পদ্মা, মেঘনা ও ডাকাতিয়া নদীর অব্যাহত ভাঙনে বিলীন হতে চলেছে চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর, ইব্রাহীমপুর ও রঘুনাথপুর ইউনিয়নসহ নদীতীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা। একদিকে নদীর স্রোতের তীব্রতা অন্যদিকে বৃষ্টিতে ভাঙনের মাত্রা আরো বেড়েছে। কয়েকদিনের ভাঙনে নদীতীরবর্তী অনেক বসতবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে গেছে। অথচ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ ক্ষতিগ্রস্তদের। পাউবোর কর্মকর্তারা বলছেন, ভাঙন ঠেকাতে শিগগিরই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে।
শহর রক্ষা বাঁধসহ ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে ৫ কোটি ২৯ লাখ টাকা চেয়ে মন্ত্রণালয়ে চিঠি দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন চাঁদপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম। তাছাড়া শহরের পুরান বাজার ও নতুন বাজার এলাকা ঝুঁকিমুক্ত করতে ৮২০ কোটি টাকার একটি স্থায়ী প্রকল্প পরিসংখ্যান কমিশনে পাঠানো হয়েছে। এ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি বর্ষায় চাঁদপুর সদর উপজেলার রাজরাজেশ্বর ও ইব্রাহীমপুর ইউনিয়নে নদী ভাঙনে শতাধিক পরিবার বসতবাড়ি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে। পাশাপাশি ভাঙন দেখা দিয়েছে শহরের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া ডাকাতিয়া নদীতীরবর্তী সদরের রঘুনাথপুর এলাকায়। ভাঙন আতঙ্কে দিন পার করছে স্থানীয়রা। এ এলাকায় ডাকাতিয়ার ভাঙনে প্রায় ৫০০ মিটার জায়গা বিলীন হয়েছে।
অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে চাঁদপুর শহর রক্ষা বাঁধের পুরানবাজার হরিসভা মন্দির এলাকা। চলতি বর্ষায় এ স্থানে নদীর তীর রক্ষা বাঁধের ব্লক দেবে যায়। হরিসভা এলাকায় বর্ষার শুরুতে চারটি প্যাকেজের মাধ্যমে ছয় হাজার ব্লক ফেলা হয়েছে। সব মিলিয়ে এ স্থানে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে সংস্কার কাজ হয়েছে। তার পরও এ স্থান ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
পদ্মা-মেঘনার পশ্চিমে রয়েছে আলুবাজার ফেরিঘাট। এ এলাকার প্রায় দেড় কিলোমিটারজুড়ে স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ঘনবসতি। আলুর বাজার ও ঈশানবালায় ভাঙনের কারণে অনেক বসতবাড়ি মেঘনায় বিলীন হয়ে গেছে। অথচ বর্ষার আগে এ স্থানে অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগের মাধমে তিনটি প্যাকেজে ৯০ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৭০ মিটার সংস্কারকাজ করা হয়েছে।
রাজরাজেশ্বর ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী বেপারী বলেন, ১নং ওয়ার্ডে অবস্থিত চিরারচর এলাকাটি ছিল পাঁচ কিলোমিটারজুড়ে। চিরারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জায়গা ভাঙনের মুখে। বিদ্যালয়ের স্থাপনা সরিয়ে নেয়া হয়েছে। পদ্মায় পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এ অংশটুকুও বিলীনের পথে।’
চাঁদপুর পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী জহিরুল ইসলাম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর এলাকায় এক কিলোমিটার প্রতিরক্ষামূলক কাজ করা হয়েছে। আমরা জিও ব্যাগ ফেলে এ এলাকায় কাজ করেছি। বর্তমানে যেসব জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেসব স্থানে আপাতত জিও ব্যাগ ও ব্লক ফেলে এলাকায় ভাঙন রক্ষার চেষ্টা করা হবে। এছাড়া সদর উপজেলার ইব্রাহীমপুর ফেরিঘাট এলাকায় ভাঙন রোধে আমরা একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি।










