পঞ্চগড়ে নিলামবাজারে একটি ব্রোকার হাউজের ক্যাটালগে উত্তরা গ্রিন টি ইন্ডাস্ট্রিজের দেয়া ২৭ টনের বেশি প্রক্রিয়াজাত চায়ের হদিস মিলছে না। চাগুলো ওয়্যারহাউজ, ব্রোকার হাউজ এবং ফ্যাক্টরিতেও নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে ব্রোকার হাউজ কর্তৃপক্ষ বলছে, চা বোর্ডের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফ খানের নির্দেশে কারখানা থেকে নমুনা নিয়ে অনলাইন নিলামবাজারের ক্যাটালগে উত্তরা টি ইন্ডাস্ট্রিজের ৩০ টন চা তালিকায় রাখেন। কিন্তু পরবর্তী সময়ে কারখানা কর্তৃপক্ষ ওয়্যারহাউজে চা সরবরাহ না করায় ক্যাটালগ থেকে ২৭ টন ৫০০ কেজি চা তুলে নেয়। আর চা বোর্ড বলছে, এ ঘটনার জন্য ওয়্যারহাউজ, কারখানা ও ব্রোকার হাউজ দায়ী। নিলামবাজারে তোলার জন্য চা বোর্ড কোনো নির্দেশনা দেয়নি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, পঞ্চগড়ে অনলাইন ১১তম নিলাম অনুষ্ঠিত হয় ২৩ সেপ্টেম্বর। নিয়ম অনুযায়ী নিলামের সাতদিন আগে ক্যাটালগের মাধ্যমে ওয়্যারহাউজে মজুদ চা ব্রোকার হাউজ বিক্রয়ের জন্য নিলামবাজারে তোলে। হিমালয় ব্রোকার হাউজ ১৫ সেপ্টেম্বর নিলামবাজারে উত্তরা গ্রিন টি কারখানার ৩০ টন চা বিক্রির জন্য ক্যাটালগের মাধ্যমে তালিকায় দেয়। পরে পঞ্চগড় গ্রিন লিফ ওয়্যারহাউজে ৬০০ বস্তার বিপরীতে ৫০ কেজির ৫০ বস্তা চা সরবরাহ করে।

হিমালয় ব্রোকার হাউজের স্বত্বাধিকারী বাবুল হোসেন বলেন, ‘নিয়ম হচ্ছে ওয়্যারহাউজে সরবরাহকৃত চায়ের নমুনা নিয়ে ক্যাটালগে চা বিক্রির জন্য তোলা হয়। কিন্তু আমি উত্তরা গ্রিন টি থেকে নমুনা সংগ্রহ করে চা বোর্ডের আঞ্চলিক কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফ খানের নির্দেশে ক্যাটালগে ওই চাগুলো বিক্রির জন্য তুলেছিলাম। পরে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, উত্তরা গ্রিন টি মাত্র ৫০ বস্তা চা পঞ্চগড় গ্রিন লিফ ওয়্যারহাউজে সরবরাহ করেছে। এজন্য ক্যাটালগ থেকে ২৭ টন ৫০০ কেজি চায়ের তথ্য মুছে দিয়েছি।’

কেন মুছে দিলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি চা বোর্ডের মৌখিক নির্দেশে নিলামবাজারের ক্যাটালগে ২৭ টন ৫০০ কেজি চা সংযুক্ত করেছিলাম। উত্তরা গ্রিন টি কারখানার মালিক ওয়্যারহাউজে সরবরাহ না করার জন্য বলেন। আমার ব্রোকার হাউজে বস্তা সংকটের কারণে ওয়্যারহাউজে সরবরাহ করেনি মর্মে চিঠি দিয়ে তিনি জানিয়েছেন।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চাগুলো উত্তরা গ্রিন টি ফ্যাক্টরিতে নেই। কারখানার পরিচালক আরিফ হোসেন বলেন, ‘আমার দুই পার্টনার প্রায় ৩০ টন চা ফ্যাক্টরি থেকে নিলামবাজারে বিক্রির জন্য নিয়ে যান। পরবর্তী সময়ে ওই চা নিলামে বা অন্য কোথাও বিক্রি করেছেন। গায়েব হওয়া ওই চা আমার ফ্যাক্টরিতে মজুদ নেই।’

পঞ্চগড় গ্রিন লিফ ওয়্যারহাউজের মালিক অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ জানান, সেপ্টেম্বরে উত্তরা গ্রিন টি করাখানা থেকে কিছু চা ওয়্যারহাউজে এসেছিল। সেই চা নিলামে বিক্রিও হয়েছে। বর্তমানে উত্তরা গ্রিন টি কারখানার কোনো চা ওয়্যারহাউজে নেই।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ চা বোর্ড আঞ্চলিক কার্যালয় পঞ্চগড়ের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আরিফ খান বলেন, ‘নিলামবাজারের ক্যাটালগে চা তোলার জন্য কোনো নির্দেশনা আমি দিতে পারি না। কারণ চা নিলামের বিষয়টি বোর্ডের ট্রেড শাখা তদারকি করে। এজন্য সেখানে আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’

তবে উত্তরা গ্রিন টি কারখানা পরিদর্শন করে তাদের উৎপাদিত চা এবং মজুদকৃত চায়ের মধ্যে অমিল পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান।