রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি পরীক্ষা শুরু হয়েছে। গতকাল ‘বি’ ইউনিটের (বাণিজ্য) পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শুরু হবে এ বছরের ভর্তি কার্যক্রম। পাঁচটি আঞ্চলিক কেন্দ্রে ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেয়ার কথা ছিল ৪২ হাজার ৪৪৩ শিক্ষার্থীর। তবে প্রায় ১৭ শতাংশ শিক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিলেন। যারা অংশ নিয়েছেন পরীক্ষার শুরুতেই বিপত্তিতে পড়েন তারা। ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের পরীক্ষা থাকলেও দেয়া হয়েছে ‘সি’ ইউনিট অর্থাৎ বিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান এবং ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের উত্তরপত্র (ওএমআর শিট), যা দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ একাডেমিক কলা ভবনের ২০১, ২০৩ ও ২০৪ নম্বর কক্ষে এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একাডেমিক ভবন ও স্যার জগদীশ চন্দ্র বসু বিজ্ঞান ভবনেও এমন ঘটনা ঘটেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

এদিকে ভর্তি পরীক্ষায় দুই স্কুলের শিক্ষকদের দায়িত্ব দিলেও বাদ দেয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ও কৃষি অনুষদের শতাধিক শিক্ষককে। এতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের এ সিদ্ধান্ত অপ্রত্যাশিত ও অনাকাঙ্ক্ষিত বলছেন তারা।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আলী বলেন, ‘এবারই প্রথম আমাদের অনুষদ থেকে কোনো শিক্ষককে কক্ষ পরিদর্শকের দায়িত্ব দেয়া হয়নি। তবে কেন দেয়া হয়নি, সে বিষয়ে আমার জানা নেই। আমাকে হয়তো ডিন হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল, কিন্তু আমি তা প্রত্যাখ্যান করেছি।’

শহীদুল্লাহ ভবনে দায়িত্বে থাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) অধ্যাপক গোলাম আরিফ বলেন, ‘পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবেই সম্পন্ন হয়েছে। তবে একটি ছোট ভুল হয়েছিল, শহীদুল্লাহ ভবনের ২০৪ নম্বর কক্ষে ভুলবশত ‘সি’ ইউনিটের ওএমআর সরবরাহ করা হয়েছিল। আমরা তা সঙ্গে সঙ্গেই সংশোধন করে সঠিক ওএমআর শিট সরবরাহ করেছি, ফলে পরীক্ষার্থীদের বড় কোনো অসুবিধা হয়নি।’

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মাঈন উদ্দিন বলেন, ‘যারা ওএমআর শিট প্রিন্ট করে প্যাকিং করেছে, তারাই ভুলটি করেছে। প্যাকিংয়ের ওপরে ‘বি’ ইউনিট লেখা ছিল, কিন্তু ভেতরে ছিল ‘সি’ ইউনিটের ওএমআর শিট। পরবর্তী সময়ে বিষয়টি আমরা খেয়াল রাখব।’