পাবনা সদর উপজেলার ভাঁড়ারা ইউনিয়ন নির্বাচনে দুই চেয়ারম্যান প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ ও গোলাগুলিতে স্বতন্ত্র প্রার্থী ইয়াসিন আলম (৪২) নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরো ১৫ জন আহত হয়েছে। তাদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। গতকাল সকালে ভাড়ারা ইউনিয়নের চারাবটতলা নামক স্থানে এ ঘটনাটি ঘটে। নিহত ইয়াছিন আলী সদর উপজেলার ভাঁড়ারা গ্রামের মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে। বিকালে নিহতের মরদেহ নিয়ে বিক্ষোভ করেন তার সমর্থকরা।
সংঘর্ষে আহতরা হলেন ভাঁড়ারা গ্রামের ইদ্রিস আলীর ছেলে রিয়াদ হোসেন, হিরা শেখের ছেলে আল্লেক শেখ, আলাউদিদ্দনের ছেলে তুহিন, আ. রহিম, হোসেন আলী, রুবেল হোসেন, হিরা শেখের ছেলে জসিম, আবু তালেব, তুহিন শেখ, আবদুল্লাহ, লালু শেখ, মোস্তফা এবং আল আমিন
গুরুতর আহত হন। তাদের পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের বিভিন্ন ক্লিনিকে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গতকাল সকালে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী
(আনারস মার্কা) সুলতান মাহমুদের ২০-২৫ জন সমর্থক নির্বাচনী প্রচারণায় বের হন। এ সময় আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবু সঈদ খানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।
দুপক্ষই ব্যাপক গুলিবিনিময় করে। এ ঘটনায় বিদ্রোহী প্রার্থী সুলতান মাহমুদের চাচাতো ভাই আরেক স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী ইয়াসিন আলমসহ উভয় পক্ষের ২৫-৩০ জন আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে। তাদের মধ্যে ছয়জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। হাসপাতালে নেয়ার পথে ইয়াসিন আলম মারা যায়।
বিদ্রোহী চেয়ারম্যান প্রার্থী সুলতান মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, বর্তমান চেয়ারম্যানের লোকজন আমার কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে সাতজন গুলিবিদ্ধসহ ২০ জনের মতো আহত হয়েছে। এ ঘটনায় অনেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আছে।
এ ব্যাপারে নৌকার প্রার্থী আবু সাঈদ খান বলেন, আমার লোকজন কোনো সহিংস কাজের সঙ্গে জড়িত ছিল না, বরং বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকরা গোলাবিনিময় করে আমার ইমেজ নষ্ট করার অপপ্রয়াস চালিয়েছে।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।










