রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আজ বক্তারা বলেছেন, টিকাদান কর্মসূচি ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে তরুণ প্রজন্ম ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সমন্বিতভাবে কাজ করা জরুরি।
ইপিআই, ইউনিসেফ বাংলাদেশ ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশে টিকাদান কর্মসূচি ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে তরুণ প্রজন্ম ও অংশীজনদের সমন্বিত কার্যক্রমের চ্যালেঞ্জ, করণীয় এবং ২০২৬ সালের হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা’ শীর্ষক এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জনস্বাস্থ্য শাখার অতিরিক্ত সচিব এ টি এম. সাইফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন মন্ত্রণালয়ের অটিজম সেলের মহাপরিচালক মো. মহসীন, ইউনিসেফ বাংলাদেশের ইমিউনাইজেশন বিভাগের হেলথ ম্যানেজার ডা. রিয়াদ মাহমুদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার আইভিডি টিম লিড ডা. সুধির যোশি এবং স্বাস্থ্য সেবা অধিদপ্তরের ইপিআই ও সার্ভিল্যান্স বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. রাজীব সরকার। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য সুরক্ষা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ও গ্যাভি সিএসও স্টিয়ারিং কমিটির চেয়ার ডা. নিজাম উদ্দিন আহমেদ।
বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ টিকাদান কর্মসূচিতে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। পোলিও ও ধনুষ্টঙ্কার নির্মূল, হেপাটাইটিস নিয়ন্ত্রণ এবং সাম্প্রতিক সময়ে এইচপিভি ও টিসিভি টিকায় উচ্চ কভারেজ অর্জন তার প্রমাণ। বর্তমানে ইপিআই কর্মসূচির আওতায় ৯টি অ্যান্টিজেনের মাধ্যমে ১২টি রোগের বিরুদ্ধে টিকা দেয়া হচ্ছে, যা শিশু ও নারীর মৃত্যু ও পঙ্গুত্ব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
তবে ২০২৬ সালের চলমান হাম-রুবেলা প্রাদুর্ভাব টিকাদান ব্যবস্থার কিছু দুর্বলতা সামনে এনেছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী দেশে হাজারো সন্দেহভাজন ও নিশ্চিত হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে এবং মৃত্যুও ঘটেছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মূল্যায়নে দেশের বেশিরভাগ জেলায় সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে এবং এটি জাতীয় পর্যায়ে উচ্চ ঝুঁকির হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, আক্রান্তদের বড় অংশই শিশু—বিশেষ করে পাঁচ বছরের কম বয়সীদের মধ্যে সংক্রমণ বেশি। টিকাদান প্রোফাইল বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অধিকাংশ আক্রান্ত শিশু টিকার বাইরে ছিল বা আংশিক টিকা পেয়েছে, যা জনসংখ্যায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার ঘাটতির ইঙ্গিত দেয়।
পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার এরই মধ্যে জরুরি এমআর টিকাদান কর্মসূচি শুরু করেছে। পাশাপাশি দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল সক্রিয় করা, চিকিৎসা কর্নার ও আইসোলেশন ব্যবস্থা, নজরদারি জোরদার এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বক্তারা বলেন, শুধু জরুরি ক্যাম্পেইন নয়—নিয়মিত টিকাদান সেবা জোরদার, দুই ডোজ এমআর কভারেজ ৯৫ শতাংশে উন্নীত করা, মিসড-কোহর্ট শনাক্ত করা এবং ভ্যাকসিন সরবরাহ ও কোল্ড চেইন নিশ্চিত করাও জরুরি। একই সঙ্গে তরুণদের কমিউনিটি পর্যায়ে সম্পৃক্ত করে গুজব প্রতিরোধ ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর জোর দেন তারা।
এ ছাড়া ইপিআই কর্মসূচির শূন্য পদে নিয়োগ, সিটি কর্পোরেশন এলাকায় জনবল বৃদ্ধি, বাজেট দ্রুত বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন, দুর্গম এলাকায় বিশেষ উদ্যোগ এবং ডিজিটাল প্লাটফর্ম সম্প্রসারণের সুপারিশ করা হয়।
সভায় বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন সহযোগী, যুব সংগঠনের প্রতিনিধি, গবেষক, শিক্ষার্থী এবং গণমাধ্যমকর্মীরা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে বিষয়ভিত্তিক প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন ডা. নিজাম উদ্দিন আহমেদ ও ইউনিসেফ বাংলাদেশের হেলথ অফিসার ডা. ফারহানা রহমান। সঞ্চালনা ও স্বাগত বক্তব্য দেন প্রকল্পের পলিসি অ্যাডভাইজার অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলাম।
বক্তারা আশা প্রকাশ করেন, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে বিশেষ করে তরুণদের সক্রিয় সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা গেলে দেশের টিকাদান কর্মসূচি আরো শক্তিশালী হবে এবং হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা সহজতর হবে।










